আজ ২৫ ডিসেম্বর, শুভ বড়দিন। ‘পাপীকে নয়, ঘৃণা করো পাপকে আর ‘ঘৃণা নয়, ভালোবাসো’ এই ‘সদা দীপ্ত রহে অক্ষয় জ্যোতিময়’ আহ্বান নিয়ে মানুষের ‘মনের রাজা’ যিশুখ্রিষ্ট এদিন আসেন এই পৃথিবীতে। ২ হাজার ১৪ বছর আগে এদিনে জেরুজালেমের বেথেলহেম শহরের এক গরিব কাঠুরের গোয়ালঘরে কুমারী মাতা মেরির গর্ভে জন্ম নেন যিশু।
মানবতার মঙ্গল কামনা আর শান্তি প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জপমালা রাণীর গির্জায় ভোর সাড়ে ৬টায় প্রথম প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি কাকরাইল, মণিপুরীপাড়া, মিরপুর, সদরঘাট, মহাখালী, বারিধারা, সাভারসহ অন্যান্য গির্জায় প্রার্থনায় অংশ নেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। ভোর থেকেই প্রার্থনায় যোগ দিতে বিভিন্ন গির্জায় মানুষের ঢল নামে।
সকাল ৭টা থেকে রাজধানীর কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথিড্রালে খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় উপাসনার মাধ্যমে দিনটির শুভ সূচনা করছেন। সেন্ট মেরিস ক্যাথিড্রালের ভারপ্রাপ্ত ফাদার নয়ন ঘোষাল সকাল সাতটা থেকে এ প্রার্থনার মাধ্যমে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করেন।
দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মী সম্প্র্রদায় পৃথক বাণীতে খ্রিষ্টান সম্প্র্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এদিকে রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জা, কাকরাইল সেন্ট মেরি ক্যাথিড্রাল চার্চ, মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সেজেছে রঙিন সাজে। গির্জার প্রবেশপথে সাজানো হয়েছে ক্রস ও শুভেচ্ছা কার্ডসহ উপহারসামগ্রী বিক্রির দোকান। এছাড়া রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, হোটেল কন্টিনেন্টাল, দ্য ওয়েস্টিন ও ঢাকা রিজেন্সি হোটেল সাজানো হয়েছে রঙিন বাতি, বেলুন, ক্রিসমাস ট্রি আর ফুল দিয়ে। আজ দিনভর হোটেলগুলোতে চলবে আনন্দ-উৎসব।
এদিকে, বড়দিনের উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর গির্জাগুলোয় পুলিশ-আনসার ও র্যাব সদস্য মোতায়েন রয়েছে।