Wednesday, August 19

মানবিক মানুষ খোরশেদ আলমের মানবিকতা

0

ফারুক আল সারাহ:  চলমান করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে আতংক চলছে। বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি দিনদিন অবনতির দিতে ধাবিত হচ্ছে। প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। মন ভালো নেই কোন পেশার মানুষেরই। সর্বত্রই উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। চলমান পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানা সহ সকল কিছু বন্ধ। শ্রমজীবিসহ সমাজের গরীব, অসহায় মানুষের চরম দুঃসময় যাচ্ছে।

করোনাভাইরাস এত শক্তিশালী যে, কাউকেই ছাড়ছে না। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলেছে এ দেশের একদল দেশপ্রেমিক পুলিশ, সেনাবাহিনী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে পুলিশকে নিয়ে নানা ট্রল হলেও সে পুলিশ বিভাগের কতেক মানবিক পুলিশ দেশের চলমান প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ মানবিকতা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তেমনি একজন বাংলাদেশ পুলিশের গর্ব অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ খোরশেদ আলম।

দায়িত্বের প্রতি খোরশেদ আলমের রয়েছে দায়িত্বশীলতা, দেশের জন্য রয়েছে দেশপ্রেম, মানবিকতায় তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত- বারবার তাই প্রমাণ করে চলেছেন। দেশের রাজধানী ঢাকার পরেই নারায়নগঞ্জ এখন ডেঞ্জার জোন তথা বিপদজ্জনক এলাকা। নারায়নগঞ্জের পুলিশেই একদিকে নিষ্ঠা অন্যদিকে বেশ ঝুঁকির মধ্যে কাজ করে চলেছেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান খোরশেদ আলম। উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তার কার্যালয় কিংবা বাসা থেকেই পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দিয়ে দায়িত্ব পালন শেষ করতে পারেন। কিন্তু তা না করে তিনি প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছেন মহাসড়কে। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট সড়কে চলাচলকারীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। করোনা সংক্রমণরোধে যাত্রীদের মাস্ক, হ্যান্ডগ্লোভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান সহ সচেতনতামুলক পরামর্শ দিচ্ছেন। যা বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের নিকট প্রশংসিত হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ খোরশেদ আলম মহাসড়কে দিনের প্রায় অধিকাংশ সময় ব্যস্ত সময় পার করেও বাসায় ফিরছেন না। ডিউটি শেষে তিনি যাচ্ছেন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দ্বারে দ্বারে। কার কি সমস্যা শুনে সাথে সাথেই সমাধান করছেন। টাকার অভাবে মাস্ক, হ্যান্ডগ্লোভস, স্যানিটাইজার কিনতে না পারা মানুষের তিনি সংক্রমণবিরোধী সরঞ্জামাদি কিনে দিচ্ছেন। বেদে সম্প্রদায়সহ সমাজের পিছিয়ে পড়াদের মধ্যে বিতরণ করছেন খাদ্যসামগ্রী। এভাবে দিনের অধিকাংশ সময় কাটিয়ে তিনি যখন বাসায় গিয়ে সুখের নিদ্রায় থাকার কথা, তার কিছুটা সময় বের করে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্খী ও এলাকার সমস্যাগ্রস্ত মানুষকে ফোনে, মেসেঞ্জারে নক দিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তিনি কারো সমস্যার কথা শুনলেই সাধ্যমতো সহযোগিতা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছেন।

ইতিহাসের ভয়াবহ যুদ্ধ থেকেও করোনা প্রতিরোধ এখন বিশ্বব্যাপী এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জে কেউ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন, আবার কেউ আতংকে সটকে পড়ছেন। দেশের চলমান প্রেক্ষাপটে খোরশেদ আলমদের মতো একদল পুলিশের দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমুর্তিকে উজ্জ্বল করে চলেছে। দেশের দূর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে খোরশেদ আলমরা যে অনবদ্য অবদান রেখে চলেছেন তাতেই উনারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক বীর। এমন বীরদের জন্য অনেক শ্রদ্ধা, অনেক ভালোবাসা। স্যালুট মানবিক পুলিশ-মানবিক মানুষ খোরশেদ আলম। জয় হোক মানবিকতার। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর এমন অবদানের জন্য উত্তম প্রতিদান দিক। সকলে তাঁর জন্য দোয়া করবেন। নিজে নিরাপদ থাকুন-পরিবার ও দেশকে নিরাপদ রাখুন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.