ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ: স্রষ্টার দুনিয়াতে কত রকম পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় এই মানুষকে। প্রতিবন্ধীদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের পরীক্ষা করার জন্যই মূলত সৃষ্টিকর্তা এমন অস্বাভাবিক ভাবে মানুষ সৃষ্টি ও রোগ দিয়ে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে ধৈর্যের পরীক্ষা করা হয় প্রতিবন্ধী পরিবার ও তাদের আত্মীয়দের জন্য স্রষ্টা প্রদত্ত। এমনটাই পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ আল কুরআনের মধ্যে পাওয়া যায়।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল বুরুজের পাড় গ্রামের মৃত নুরুজ্জামানের মেয়ে ফাহিমা। মেধাবী ভদ্র ও আদর্শবাদ একটি সাদামাটা মেয়ে। এলাকার সকলের চোখে ছিল একজন ভালো মেয়ে এবং শিক্ষকদেরও কাছে একজন ভালো মেধাবী ছাত্রী। ভালো ফলাফল নিয়ে ১৯৯৮ সালে দাখিল পাশ করেছিল কাঁচকোল সখিনা দাখিল মাদ্রাসা থেকে।
উচ্চ শিক্ষার লাভের জন্য ভর্তি হয়েছিল রাজারভিটা মাদ্রাসায়। কিন্তু অভাবের সংসার বারবার নদী ভাঙ্গনের শিকার এর উপর আকষ্মিকভাবে বাবা নুরুজ্জামান
পার্যালাইসিস আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই পরিবারের হাল ধরতে কাজের সন্ধান্তে পাড়ি জমান ফাহিমা চট্রগ্রামে। কিন্তু কাজ আর রোজগার ও পরিবারের সাহায্যের পাশাপাশি লেখা পড়াও চালিয়ে যান। অংশ নেন আলিম পরিক্ষায় কিন্তু তাকে হঠাতেই বহিস্কার করা হয় এসময় ভেঙ্গেন পড়েন সে। আবারো চলে যান কাজের সন্ধান্তে কিন্তু একদিন কাউকে কিছু না বলেই চলে আসেন বাড়িতে এবং গভীর রাতে করে চিৎকার করে উঠেন। চিকিৎসা শুরু হয় কিন্তু ভালোর লক্ষন না থাকায় এক পর্যায়ে আশা ছেড়ে দেয় পরিবার। এরই মধ্যে বাবা চলে যান না ফেরার দেশে অভাব আরো চেপে ধরে। ধীরে ধীরে অনেক বেশি অসহায় হয়ে পড়ে প্রতিবন্ধি মেয়ে ফাহিমাকে নিয়ে তার মা ও বোনেরা। যদিও মায়ের বিধবা ভাতা আর ফাহিমার প্রতিবন্ধি ভাতা দিয়ে চলছে টানাটানি সংসার। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে পাবনা মানসিক
হাসপাতাল থেকেও ফিরে আনেন ফাহিমাকে তার মা।
কোন উপায় না পেয়ে মানসিক প্রতিবন্ধি মেয়ে যেন কারো ক্ষতি করতে না পারে তাই বাড়ির উঠানে শিকল দিয়ে সব সময় বেঁধে রাখতেন ফাহিমাকে।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ছুটে যান চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ খবর নেন ফাহিমার সর্ম্পকে সাথে সাথে শিকল মুক্ত করেন প্রতিবন্ধি ফাহিমাকে। সুন্দর ভাবে কথা বলেন তার সাথে তার সমস্যার কথা সব শুনে পরিবারের কাছে। তার সমস্যা সমাধানসহ চিকিৎসা করার প্রতিশ্রুতি
দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তার শিকল মুক্ত ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগীতার আশ্বাস পেয়ে ফাহিমার মায়ের মুখে হাসি ফুটে উঠে এবং প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান এলাকাবাসী। এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন তার চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হবে এবং সে যেন সুস্থ হয় আমাদের পক্ষ থেকে সকল চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে মানসিক হাসপাতালের সহযোগিতায় চিকিৎসা প্রদান ও অন্যান্য ব্যয় দেওয়া হবে।