Sunday, September 13

মানহানির দুই মামলায় খালেদার জামিন বহাল

0

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে ‘বির্তকিত’মন্তব্যের জেরে ঢাকা ও নড়াইলে করা দুটি মানহানি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ আজ সোমবার এ রায় দেন।

খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে আবেদন করেছিল, তা আজ খারিজ করে দেন আদালত। ফলে খালেদার জামিন বহাল থাকল।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন,এ জে মোহাম্মদ আলী ও কায়সার কামাল।

পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন গণমাধ্যমকে বলেন, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বহাল থাকলো।
তিনি যোগ করেন, এগুলো জামিনযোগ্য মামলা। বিচারিক আদালত জামিন না দেওয়ায় আমাদের উচ্চ আদালতে আসতে হয়েছিল। হাইকোর্ট জামিনও দিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দশ্যে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করতে আপিল করা হয়েছিল।

নড়াইলের আদালতে করা মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে গত ১৩ অগাস্ট ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। আর ঢাকার মামলায় খালেদা জিয়া ছয় মাসের জামিন পান গত ১৪ অগাস্ট।
ওই দুই আবেদনের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার আদালতে আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। সোমবার সেই শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনা সভায় খালেদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে বলা হয়, এতো লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।’
একাত্তরে আওয়ামী লীগ ‘স্বাধীনতা’ নয়, ‘ক্ষমতা’ চেয়েছিল দাবি করে ওই সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘তিনি (জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি।’

এ ঘটনায় নড়াইলের আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী। আর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে (সিএমএম)অন্য মামলাটি রেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ওই মামলায় তিনি জামিন পেলেও আরও কয়েকটি মামলার কারণে তার মুক্তি হচ্ছে না। একই মামলায় ১০ বছরের দণ্ড নিয়ে বিদেশে ফেরারি বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.