সেন্সরশিপ কমিয়ে টুইটারে গণতন্ত্র আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন আলোচিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক, এখন তার মালিকানায় এই ‘ডিজিটাল টাউন স্কয়্যার’-এর ভবিষ্যত কেমন হতে যাচ্ছে? উত্তরে আসছে নানা অনিশ্চয়তার কথা।
ডিজিটাল মানবাধিকারকর্মীরা শুরু থেকেই আশঙ্কা করে আসছেন, যথাযথ সেন্সরশিপের অভাবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের প্রচার বাড়বে টুইটারে।
প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ বা স্থগিত হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনা হবে কি না, এমন প্রশ্নও তুলেছেন টুইটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকে। উল্লেখ্য, টুইটারে নিষিদ্ধ হওয়া সবচেয়ে ‘হাই-প্রোফাইল’ ব্যক্তি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
অধিগ্রহণ চুক্তির ঘোষণা আসার পরপরই টুইটার নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। মাস্ক নিজেকে বাকস্বাধীনতার বড় সমর্থক বলে প্রচার করেন। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা– টুইটারের ওপর মাস্কের একচ্ছত্র আধিপত্য বাকস্বাধীনতার নামে বিদ্বেষমূলক প্রচারণার পথ সুগম করবে।
সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে মাস্ক ক্ষেত্রবিশেষে টুইটারকে কখনও ব্যক্তিগত গণযোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম, কখনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ মেটানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। টুইটারে বিভিন্ন সময়ে মাস্কের খোঁচা-বিদ্রুপের শিকার হয়েছেন সাবেক অ্যামাজন প্রধান জেফ বেজোস থেকে শুরু করে রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমসের প্রধান দিমিত্রি রোগোজিন।
এ ছাড়াও, ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডে গুহায় আটকা পড়া কিশোরদের উদ্ধারকাজে নিয়োজিত এক ব্রিটিশ ডাইভারকে ‘শিশু নিপীড়ক’ বলে টুইট করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন মাস্ক। উদ্ধারকর্মীদের ওপর মাস্ক খেপেছিলেন, কারণ তার মিনি সাবমেরিন ব্যবহারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তারা।, গুহার কিছু সরু অংশে প্রবেশ করা একা একজন ডাইভারের জন্যই কষ্টকর ছিল। সেই পরিস্থিতিতে মাস্কের সাড়ে পাঁচ ফিট আকারের সাবমেরিন ব্যবহারের কোনো সুযোগই ছিল না।
সেই মাস্কই টুইটারের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সমঝোতায় আসার পর বাকস্বাধীনতাকে ‘গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, এক টুইটার থ্রেডে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, “ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য নির্মিত নীতিমালা ও কার্যপ্রণালীর ক্ষতি করতে পারে, টুইটারের এমন সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে শঙ্কিত” সংস্থাটি।
“ব্যবহারকারীদের প্রতি সহিংস এবং নিপীড়নমূলক আচরণ ইচ্ছে করেই অগ্রাহ্য করে যায় এমন টুইটার মোটেই প্রত্যাশিত নয়।”
এ প্রসঙ্গে টুইটারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর পায়নি বিবিসি।