নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় এক ব্যক্তির ক্রয়কৃত জমিতে তৈরিকৃত মার্কেট ও জমি আত্মাসাতের জন্য অপহরণ করে হত্যার হুমকি দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম পত্নীতলা প্রেসক্লাবে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ সূুত্রে জানা যায়, নওগাঁ শহরের বনবিভাগ অফিসের পাশে আমানা গ্রীন সিটিতে আমার বোন জান্নাতুন নাঈম ও ভগ্নীপতি কাজী মহিউদ্দিন আলমগীরের বাসা। বোন ও ভগ্নীপতির বাসার সন্নিকটেই আমানা গ্রীন সিটির মুখে প্রধান সড়ক সংলগ্ন হাল ৬১৯ নং দাগে ১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে নিজ নামে খারিজ করে খাজনাদি পরিশোধ করে পৌর প্ল্যান পাশ করে তথায় টিনশেড মার্কেট নির্মানের কাজ শুরু করি।
ইতিমধ্যে ভগ্নীপতি কাজী মহিউদ্দিন আলমগীরের দীর্ঘদিনের পরকিয়া প্রকাশ পায়, অতঃপর ভগ্নীপতি ২য় বিয়ে করার পর বোনের সংসারে চরম অশান্তি ও আমাদের মধ্যে দ্বন্দ ও সম্পর্কের ভাঙ্গন শুরু হলে ভগ্নীপতি তার বন্ধু আমানা গ্রুপের মালিকদের সাথে হাত মিলিয়ে তাদের পালিত লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে মার্কেট নির্মাণ কাজে বাধা ও হুমকি দিলে নওগাঁ সদর থানায় জিডি করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মাইক্রোবাস যোগে অপহরণ করে অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে ১০০ টাকার ৬টি খালি স্টাম্পে সাক্ষর নিয়ে নওগাঁ থেকে চলে যাওয়ার অঙ্গিকার নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। এরপরও পুলিশের অতিলোভী কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে আমানা গ্রুপ ও ভগ্নীপতি কাজী মহিউদ্দিন আলমগীর আমাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আমার মার্কেট ও জমিতে যাওয়ার পথ বন্ধ করে। আমার জমিতে ভুয়া ওয়ারিশ ও ভুয়া খাজনা রশিদ ব্যবহার করে বার বার জাল দলিল তৈরি করেছে।
সর্বশেষ গত ২১/০৫/১৯ তারিখে ভগ্নীপতি নিজেই তার বড় ভাইয়ের ব্যবসায়িক পার্টনার আঃ সামাদের নামে জাল দলিল তৈরি করে তাকে দিয়ে আমান মার্কেট দখলের চেষ্টা করছে। একইসাথে বোনের জীবনে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে অপরদিকে আমার জমি ও নিজের তৈরি মার্কেটে যেনো যেতে না পারি সেজন্য আরো ষড়যন্ত্রমূলক ও সাজানো মিথ্যা মামলায় জড়ানোর জন্য পুলিশি হয়রানি অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ গত ১৫/১০/১৯ তারিখ রাত আনুমানিক ১.৫০টার সময় মহাদেবপুর থানার এসআই নুর ইসলামসহ ৩ জন পুলিশ দেবরপুর গ্রামে আমার নিজ বাড়িতে হানা দেয়। আমার বাড়িসহ আমার চাচাদের বাড়ি তল্লাশি করে। এতে বৃদ্ধ, অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষজন গভির রাতে আতংকিত হয়ে পড়ে। আমার মা, বোন ও চাচাতো ভাই উক্ত এস আই নুর ইসলামকে রাতে তল্লাশির কারণ ও কি অভিযোগে এসেছেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি এবং তল্লাশির কারণ স্বরুপ কোন ডকুমেন্টও দেখাতে পারেননি। আমার আশঙ্কা আমাকে সেই রাতে বাড়িতে পেলে তাৎক্ষণিক কোন পরিকল্পিত নাটক সাজিয়ে সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করতো।
গত ১৯/১০/১৯ তারিখ দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে আমার মা ও বোন মহাদেবপুর থানায় গিয়ে ১৫ তারিখ রাতে তল্লাশির কারণ জিজ্ঞসা করলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন কারণ জানাতে পারেননি। আমার মার্কেট ও জমি আত্মসাতের জন্যই আমাকে রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে বারবার হয়রানি করা অব্যাহত রেখেছে। অথচ, পারিবারিক ভাবে দাদা বাবার আমল থেকে আমাদের পরিবার আওয়ামীলীগপন্থী এবং আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমার গ্রামবাসী আমাকে একজন নিরীহ ব্যক্তি হিসাবে চেনেন ও জানেন। এমতাবস্থায় আমি যেনো হয়রানি মুক্ত জীবন যাপন করতে পারি এবং আমার মার্কেট ও জমি ভগ্নীপতি ও আমানা গ্রুপের ষড়যন্ত্রের কবল থেকে রক্ষা করতে পারি। এমতাবস্থায় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।