Friday, August 28

মিন্নির জামিন আবেদন শুনানি আগামী ৩০ জুলাই

0

বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার তার স্ত্রী ও মামলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদনের শুনানি আগামী ৩০ জুলাই ধার্য করেছেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আজ মঙ্গলবার এ প্রসঙ্গেই কথা বলেছেন তার আইনজীবী ও জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল বারী আসলাম।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় দায়রা জজ আদালতে মিন্নির জামিন আবেদন করেন অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার আবেদনের শুনানির জন্য ৩০ জুলাই দিন ধার্য করেন আদালত।

পরে অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল বারী আসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ২১ জুলাই আমি মিন্নির পক্ষে বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে প্রথম জামিনের দরখাস্ত করি। ওই জামিনের দরখাস্ত নামঞ্জুর হলে আমি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের জন্য ফৌজদারি মিসকেস দরখাস্ত করি। আজ তার জামিনের দরখাস্ত অ্যাডমিশন হয়েছে। নিম্ন আদালতে নথি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ জুলাই জামিনের আবেদন শুনানির জন্য রয়েছে।’
মিন্নির জামিন নিয়ে কতটুকু আশাবাদী এ প্রসঙ্গে ওই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা আশাবাদী এবার মিন্নির জামিন হবে।’

সোমবার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া মিন্নির জবানবন্দি প্রত্যাহার চেয়ে তাকে আদালতে তলবের আবেদন করেন তার আইনজীবী ও জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। এ সময় আইনজীবী মিন্নি অসুস্থ বলেও দাবি করে তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়ার আবেদন করেন। দুটি আবেদনই নামঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম গাজী।

এর আগের দিন রোববার মিন্নির জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত নামঞ্জুর করেন।

গত ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশলাইনসে নিয়ে যায় পুলিশ। এর পর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

পর দিন মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত মিন্নির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী।

প্রসঙ্গত বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের পরের দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.