জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের বছরব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন হবে আজ মঙ্গলবার। সীমিত আয়োজনের এই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাঁর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার লেখা কবিতা আবৃত্তি করবেন বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; শেখ রেহানা কণ্ঠ দেবেন মুজিববর্ষের ‘থিম সং’-এ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবর্তিত কর্মসূচি তুলে ধরেন। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও উদ্যাপিত হয়ে আসছে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এবার সেই আয়োজনেও কাটছাঁট করা হয়েছে।
কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানিয়েছেন, শিশু দিবসে স্কুল-কলেজে শিশুদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও তা এবার আর হচ্ছে না। বাবাকে নিয়ে শিশুদের উদ্দেশে শেখ হাসিনার লেখা একটি চিঠি কোটি শিক্ষার্থীর একসঙ্গে পাঠ করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। তবে চিঠিটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে।
তিনি জানান, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থল ও সমাধিস্থলকে ঘিরে শিশু সমাবেশের যে আয়োজন ছিল, তাও হচ্ছে না। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মুজিববর্ষের মূল আয়োজন বাতিল হওয়ার পর আজ মঙ্গলবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে কোনো ধরনের জনসমাগমের ব্যবস্থা না রেখে। বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণের সঙ্গে মিল রেখে রাত ৮টায় এ অনুষ্ঠানের শুরু হবে। সেই অনুষ্ঠান দেখা যাবে টেলিভিশনে।
কামাল চৌধুরী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজির প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ‘মুক্তির মহানায়ক’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে। এরপর রেকর্ড করা সব অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হবে টেলিভিশনে। দুই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের পর রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। এরপর থাকবে শত শিশুর কণ্ঠে গান। এরপর প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন জাতির উদ্দেশে।
তিনি বলেন, এরপর বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ব্যক্ত করবেন তাঁর অনুভূতি। শেখ রেহানার লেখা কবিতা আবৃত্তি করবেন শেখ হাসিনা, তাতে থাকবে বাবাহারা কন্যার আকুতি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে ‘থিম সং’ করা হয়েছে, সেটি গেয়ে শোনাবেন শিল্পীরা। শেখ রেহানাও সেখানে কণ্ঠ দিয়েছেন।
কামাল চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের রেকর্ড করা ভাষণ এদিন সম্প্রচার করা হবে। জাতিসংঘ ও ওআইসি মহাসচিবের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ থাকবে সেখানে। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে পিক্সেল ম্যাপিং, সেখানে থাকবে লেজার শো। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দুই সিটি করপোরেশন আতশবাজির প্রদর্শনীর আয়োজন করবে। এর আগে বিকেল ৫টায় গণভবনে বসে মুজিববর্ষের স্মারক ডাকটিকিট ও স্যুভেনির উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন সকালে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেবেন শেখ হাসিনা। পরে তিনি যাবেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়।