সামছুন্নাহার যুথী ঢাকা ব্যাুরো ;মুন্সীগঞ্জের পুরো জেলা শনিবার সিল করে দেয়া হয়েছে। মুক্তারপুর এবং শ্রীনগরের ছনবাড়ি পয়েন্ট দিয়ে শুধু জরুরী যান প্রবেশ করতে পারবে। প্রবেশের আর সবপথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নৌপথও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
গজারিয়ার মেঘনা মোহনায় নৌযান দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে নৌপুলিশ। এর আগে মুন্সীগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় ১০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনিবার সিভিল সার্জন মো. আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গজারিয়ায় স্বাস্থ কমপ্লেক্সে দুই কর্মকর্তা আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালটি লকডাউন করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানাযায়, শুক্রবার মধ্যে রাতে আইইডিসিআর থেকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানো হয়, গত ৮ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জ থেকে যে ১৬ জনের সোয়াব সংগ্রহ করার পর পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছিলো সেখানে সাতজন আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও শনিবার সোয়া ১০ টার দিকে আবারো জানানো হয়, ৯ এপ্রিল পাঠানো ২১ জনের সোয়াব থেকে আরো তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গজারিয়া উপজেলার তিনজন। তাঁদের মধ্যে দুজন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা। একজনের বয়স (৪০) ও অপর জনের বয়স(৪৫)। তারা দুজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই থাকতেন।অন্যজন উপজেলার কালিপুরা এলাকার বাসিন্দা(৪০) টঙ্গীবাড়ীতে উপজেলার সবচেয়ে বেশি চারজন আক্রান্ত হন। তারা হলেন, উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের ঢুলিহাটা গ্রামের একব্যক্তি (৩৫), কে-শিমুলিয়া ইউনিয়নের ধামারন গ্রামের একজন (৩৬) , আউটশাহী ইউনিয়নের দোরাবর্তী গ্রামের এক ব্যাক্তি (৪৪),পুরা বাজার এলাকায়( ৪৫) একজন।
এছাড়াও শ্রীনগর উপজেলার পাঠাভোগ ইউনিয়নের শয়িনপুর এলাকার এক ব্যক্তি (৬০)। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পানাম এলাকার এক নারী (৪৮) ও সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের আড়িপাড়া এলাকার আরেক নারী (৩৩)।
স্বাস্থ্য বিভাগের আক্রান্ত ওই দুই কর্মকর্তাসহ গজারিয়ার তিনজনকে রাতেই অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আর কর্মকর্তা সংক্রমিত হওয়ায় আইইডিসিআর গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। যারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছে, তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও গুরুত্ব অন্য আক্রান্তদের ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও গন। মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন আবুল কালাম বলেন, আক্রান্ত সবার সঙ্গেই আইইডিসিআর এবং উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন কথা বলেছেন। রাতেই সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারায়ণগঞ্জে করোনা প্রাদুর্ভাবের যোগসূত্র রয়েছে। তিনি এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন হতে ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে নিজ জায়গায় অবস্থানের পরামর্শ দেন।
এদিকে সম্পূর্ণ মুন্সীগঞ্জ জেলাকে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার । এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন,শনিবার করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরুরী সেবার যানবাহন ছাড়া সব ধরনের যানবাহ বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। সাধারন মানুষকে বাড়ি থেকে বেড় হতে নিষেধ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন এড়াতে কার্যত সম্পূর্ণ জেলাকে লকডাউন করা হচ্ছে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে জনস্বার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গজারিয়া হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্মরত দুজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারনে আইইডিসিআর এর নির্দেশে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ বন্ধ করে করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।হাসপাতালটির চিকিৎসক ও অন্যান্য স্টাফরা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। হাসপাতালের বাহির থেকে কাউকে ভেতরে ও ভেতর থেকে কাউকে বাহিরে বেড় হতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এখানকার রোগীরা।
স্থানীয়রা জানান,হাসপাতালের আগের তুলনায় রোগীরা কম আসে। তবে শনিবার থেকে জরুরী বিভাগ বন্ধ এবং বর্হিবিভাগে চিকিৎসক নেই।হাসপাতালেও কাউকে ডুকতে দেওয়া হচ্ছেনা। এর ফলে এ উপজেলার রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত রোগীদের জন্য বিকল্প কোন ব্যবস্থার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।
হাসপাতালটির স্বাস্থ কর্মকর্তা ড. তাসলিমা আনাম বলেন, যেহেতু আক্রান্ত দুজন হাসপাতালে জরুরী বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তারা হাসপাতালেই থাকতেন।গত শুক্রবার রাতে করোনার রিপোর্ট পেয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ, এক সাথে কাজ করা ৩ জনসহ চিকিৎসকসহ মোট ১১ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে ৫ জন ভর্তি ছিল। করোনার কথা শুনে তিনজন পালিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, চিকিৎসক নেই। সে ক্ষেত্রে রোগীদের সেবাদান বন্ধ ব্যহত হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে। গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান সাদি শনিবার বলেন,আইইডিসিআর এর নির্দেশে হাসপাতালের জরুরী বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে কয়েকজন রোগী ভর্তি আছে। আপাতত হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ ও হাসপাতালের ভিতর থেকে কাউকে বেড় হতে নিষেধ করা হয়েছে। হাসপাতাল লকডাউন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালকে লকডাউন করা না হলেও বাস্তবিক অর্থে ডাউনের মতই।