ম্যারডোনা মাঠে মেসির পারফরম্যন্স নিয়ে হটকারী মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ও মাঠের চাপ নিতে পারে না, একটা ম্যাচের আগে যে ২০ বার বাথরুমে যায় তাকে নেতা বানানোর চেষ্টা অনর্থক।’
কয়েকদিন ধরে তোপের মুখে ছিলেন এই কিংবদন্তি। সেই ম্যারাডোনাই আবার পাল্টেছেন নিজের ভোল।মেসির সমর্থক মহলের প্রতিবাদের পর নিজের অবস্থান পাল্টে ছিয়াশির বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক বলেছেন, ‘মেসি আমার ভালোবাসার পাত্র। নিজেদের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব আছে আমাদের। কিছু মিডিয়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাদের দূরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’
অতীতে নানা দেশের নানা খেলোয়াড়কে নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন ম্যারাডোনা। ছিলেন মেসিদের গুরুর পদে। কিন্তু জাতীয় দলে তার দেয়টা সামান্য। কোচ থাকা অবস্থায় বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে আর্জেন্টিনা ছিটকে পড়লে, ছেড়ে দেন নিজের পদ। এর পর থেকেই নানা সময় মেসিকে নিয়ে মন্তব্য করে যাচ্ছেন তিনি।
মেসির খেলা, তার অসুস্থতা নিয়েও বিভিন্ন সময় মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। জাতীয় দল কিংবা বার্সেলোনার কোনো ম্যাচের অাগে বা ম্যাচ চলাকালীন মাঠেই বমি করতেন মেসি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু ম্যাচের আগে স্নায়ুচাপের কারণেও মাঠে বমি করতেন তিনি। এসব নিয়েও মন্তব্য করেছেন ম্যারাডোনা।
কিন্তু এখন তিনি যা বলছেন, তা শুনলে মনেই হবে না, সাপে নেউলে যুদ্ধ করেছেন তিনি। ভোল পাল্টে এবার তিনি বলছেন, ‘আমি জানি, মেসি কে। আমি জানি, সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। ম্যাচের আগে যদি ২০ জন খেলোয়াড় বাথরুমে যেত, সেক্ষেত্রে আমি কখনও লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করতাম না।’
ম্যারাডোনা বলেন, ‘আসলে যেটা ঘটে তা হলো মানুষ আমাকে মেসির মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়। কিন্তু তারা পারে না। তারা পারবে না। লিওনেলের সঙ্গে আমার যে বন্ধুত্ব আছে তা আপনারা (সাংবাদিক) সবাই মিলে যা লেখেন তার চেয়ে বেশি কিছু। আমি বলছি, মেসি বিশ্বসেরা।’
গত শনিবার শনিবার রাতে কাম্প নউয়ে সেভিয়ার বিপক্ষে লা লিগায় বার্সেলোনার ৪-২ গোলে জেতা ম্যাচের ষোড়শ মিনিটে বল দখলের লড়াইয়ে পড়ে গিয়ে ডান হাতে ব্যথা পান মেসি। প্রথমে মাঠে পরে সাইডলাইনে বেশ কিছুক্ষণ প্রাথমিক চিকিৎসা চলে তার। শেষ পর্যন্ত আর মাঠে নামতে পারেননি তিনি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আগামী তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে পাঁচবারের বর্ষসেরা খেলোয়াড়কে। যে কারণে ২০০৭ সালের পর এবারের এল ক্ল্যাসিকো হবে মেসিবিহীন। এই সময়ের মধ্যে মোট ৬টি ম্যাচ মিস করার আশংকা আছে মেসির।