Wednesday, September 16

যতদিন ইচ্ছা সাজা দিন, এখানে বারবার আসতে পারব না: আদালতে খালেদা জিয়া

0

আজ বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের ভেতরে বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস বসিয়ে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার বিচারের ব্যবস্থা করায় অসন্তোষ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে নতুন এ এজলাসে বিচার কার্যক্রম শুরুর পর খালেদা জিয়া নিজের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে আদালতে বিচারককে বলেন, আমার শারীরিক অবস্থা ভালো না। আমার পা ফুলে গেছে। ডাক্তার বলেছে, পা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। আমি এখানে বারবার আসতে পারব না। আপনাদের যা মনে চায়, যতদিন ইচ্ছা সাজা দিয়ে দেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায়ে এই কারাগারে সাজা ভোগ করছেন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া বলেন, এই মামলায় শুনানির জন্য আজকের দিন তো আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। কিন্তু একদিন আগে তড়িঘড়ি করে আদালত স্থানান্তর করে গেজেট দেয়া হয়েছে। ন্যায়বিচার বলে কিছু নাই। অবিচার হচ্ছে। কথা বলা যায় না। ইচ্ছামতো আপনারা যা খুশি সাজা দিয়ে দেন।

এদিন দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে খালেদা জিয়াকে কারাগারে তার কক্ষ থেকে হুইল চেয়ারে করে আদালতের এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আদালতের কার্যক্রম শেষে এরপর হুইল চেয়ারে করে তাকে কারাগারে নিজ কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে আদালত থেকে বেরিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ঢাকা বারের সভাপতি বিএনপিপন্থী আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমার বাম পা সোজা হয়ে থাকে, বাঁকা করতে পারি না। তার বাম হাতও একেবারেই চলছিল না। তিনি কাঁপছিলেন। হুইল চেয়ার থেকে চেয়ারে বসতে পারেন না। তিনি আদালতকে বলেন, ‘মামলা যেভাবে চলে চলুক, আমি আর আসতে পারব না।’

গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, খালেদা জিয়া আদালতকে আরও বলেন, আপনারা সাজা দেয়ার জন্যই তো এই আদালত পরিচালনা করছেন। আদালত তো আমার কথা শোনেনই না, শুনতেই চান না। নেমে চলে যান। আজ তাও সামনে দিয়ে গেলেন। এই মামলায় ১২/১৩ তারিখ পরবর্তী দিন দেয়া হয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট দেখলে বুঝতেন আমার শরীরের অবস্থা কী। সুতরাং আমি আর আসতেই পারব না। এই কোর্ট তো সাজা দেয়ার জন্যই।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত ঘোষণা করে সেখানেই দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি করার নির্দেশ দেয়।

এ কারাগারেই আরেকটি ভবনের দোতলার একটি কক্ষে গত সাত মাস ধরে বন্দি রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এতিমখানা দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই বিচারক তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.