Monday, August 17

যমুনা নদীগর্ভে চলে গেল পাইকশা মাইঝাই স. প্রা. বিদ্যালয়

0

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের পাইশা মাইঝাই স. প্রা. বিদ্যালয়টি গতকাল ১৩ জুন সন্ধ্যায় যমুনা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গিয়েছে।

এছাড়াও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের আগাম বন্যায় যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ঘর বাড়ি নদীরগর্ভে বিলিন হয়ে গিয়েছে, আবার কেউ বা ঘর ঘুলে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র।

এই এলাকার বাসিন্দা নাগরপুর সরকারি কলেজের সাবেক জিএস মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৩ সপ্তাহে প্রায় ২ শতাধিক ঘরবাড়ি, ৩ টি মসজিদ, ১ কমিউনিটি ক্লিনিক, ১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে। পুরো বন্যা এখনো তো বাকি। দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে যমুনা নদী ভাঙ্গন থেকে সলিমাবাদ ইউনিয়ন রক্ষা করা কঠিন হবে।

আজ ১৪ জুন সকালে উপজেলা নির্বাহি অফিসার ইউএনও সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম সলিমাবাদ ইউনিয়নের এর পাইকশা মাইঝাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ইউনিয়নের যমুনা নদীর বিভিন্ন ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি ভাঙ্গনকবলিত মানুষদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন এবং তাদের জন্য নির্ধারিত দূর্যোগ মোকাবেলায় আশ্রয়ন কেন্দ্র (জনতা ডিগ্রি কলেজ) এ স্থানান্তর হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।

আগাম বন্যায় সলিমাবাদ ইউনিয়ন এর পাইকশা মাইঝাইল সহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সরোজমিনে তিনি পরিদর্শন করেন। ভাঙ্গন রোধ কল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ডিসি মো. শহিদুল ইসলাম এর কাছে সুপারিশ পেশ করেন। কিভাবে এই ভাঙ্গন রোধ করে জনজীবনে সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায় এবং নদীগর্ভে বিলীন হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি এর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ বিভিন্ন মহলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেন।

যমুনা নদীর ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ আবু বকর সহ সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়জুল ইসলাম বলেন, আমরা আগে থেকেই এই সলিমাবাদ ইউনিয়নের অংশের যমুনা নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি মাননীয় জেলা প্রশাসক ডিসি স্যারের কাছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আজকে আমি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) এসব এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্নয়ের চেষ্টা করেছি।

এসব মানুষের জীবনের বাস্তবতা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। যাতে এলাকায় যমুনার এ ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হয়। এলাকার মানুষের জীবনে যাতে শান্তি ফিরে আসে। এছাড়াও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যার কে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সে বিষয়টি আমরা লক্ষ্য রাখবো। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই অস্থায়ী ভাবে অন্যত্র বিদ্যালয়ের পাঠদান চালানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.