Tuesday, August 25

যাত্রী হয়রানী বন্ধে প্রতিবছর ১৩ সেপ্টেম্বর “যাত্রী অধিকার দিবস” পালনের ডাক – যাত্রী কল্যাণ সমিতি

0

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী, টিআইবির চেয়ারপার্সন এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, দেশে অধিকার বঞ্চিত যাত্রীসাধারণের হয়রানী বন্ধের আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর কারামুক্তি দিবস ১৩ সেপ্টেম্বরকে প্রতি বছর “যাত্রী অধিকার দিবস” হিসেবে পালন করা হবে। তিনি বলেন, দেশে দীর্ঘ প্রায় ২ দশক ধরে যাত্রী অধিকার আন্দোলনের প্রবক্তা মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও যাত্রী কল্যাণ সমিতি কন্ঠ রোধ ও কার্যক্রম বন্ধে একটি কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর নানা অপতৎপরতা হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েও যাত্রীস্বার্থের আন্দোলন বন্ধ করতে পারেনি। তখন আমরা দেখলাম তারাই একটি মিথ্যা বানোয়াট মামলায় রাতের আধাঁরে মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করে । তখন আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী পিছু হটতে বাধ্য হয়। যার ফলে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর আজকের এই দিনে মোজাম্মেল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পায়।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমাদের সমাজে একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে । রাস্তা ভালো না, ট্রাফিক পুলিশ ঘুষ খাই, আরও অনেক সমস্যার কথা বলতে শুনি। কিন্তু কথা হচ্ছে এগুলোর কারণে যাত্রীরা কেন ভোগান্তীর শিকার হবে ? কাজের জন্য প্রতিদিনই আমাদের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় । এখন গাড়িতে উঠে আমরা বসার জায়গায় পাব কিনা সেটা নিয়ে ভাবি না, ভাবি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো কিনা ! মেয়েরা ভাবে সম্মান নিয়ে , ধর্ষিত না হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো তো !

জাতীয় সংসদ সদস্য মইনউদ্দিন খাঁন বাদল বলেন, যাত্রী অধিকার শুধু যাত্রীসাধারণের স্বার্থ রক্ষা করে তা নয়। যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে পরিবহণে নৈরাজ্য, হয়রানী কমার পাশাপাশি সামগ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। সরকারের সামগ্রিক উন্ন্য়ন আরো দৃশ্যমান হবে। এজন্য যাত্রী কল্যাণ সমিতির আন্দোলন সংগ্রাম আরো জোরদার করা প্রায়োজন। যাত্রী অধিকার দিবস অন্যান্য দিবসের মতো একটি দিন নয়। এইদিনে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনামুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে সকল পক্ষ দায়িত্ববান আচরণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করি।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমাকে মিথ্যা চাদাঁবাজীর মামলায় গ্রেফতারের পর দেশের সচেতন মহল, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও গণমাধ্যম যেভাবে প্রতিবাদ করেছে এতে আমি অবিভুত। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। এই আন্দোলনে আমার উৎসাহ আরো বহুগুণ বেড়েছে। যত বাধাঁ-বিপত্তি আসুক যতদিন দেশে যাত্রী হয়রানী, ভাড়া নৈরাজ্য, সড়ক নিরাপত্তা তথা যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের সাথে নিয়ে যাত্রী অধিকার আন্দোলন চালিয়ে যাব।

বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খাঁন বলেন , এদেশে যাত্রী হয়রানী ও সড়কে নৈরাজ্য সবচেয়ে বেশি। তাই যাত্রী অধিকার দিবসের ডাক বাংলাদেশ থেকে দেয়া হয়েছে বলেই এই দিবসটি যদি প্রতিষ্ঠা পায়, তবে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশকে পথ দেখাবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্ময়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, সড়কে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার কারণে আমরা যে পরিমাণ জিডিপি হারাচ্ছি তা রোধ করা গেলে বাংলাদেশ বহু আগেই উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতো।

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ মজুমদার বলেন, যোগ্য চালকের সংকট, ছোট যানবাহনের আধিক্য ও দৌড়াত্ব আইনের অপপ্রয়োগ জিইয়ে রেখে সড়কে নিরাপত্তা বা যাত্রী অধিকার সুরক্ষিত হবে না।

দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে “যাত্রী অধিকার দিবস” এর ঘোষণাপত্র পাঠ করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.