Sunday, July 26

যুক্তরাজ্যে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের প্রতিকৃতি উন্মোচন

0

শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের প্রতিকৃতি উন্মোচন করেছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। গত শুক্রবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি মার্গারেট হলে শোভা পাচ্ছে প্রতিকৃতিটি। এ নিয়ে দ্বিতীয় কোনো পাকিস্তানির প্রতিকৃতি সেখানে স্থান পেল। মার্গারেট হলে এর আগে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছিল।

মালালার প্রতিকৃতিটি এঁকেছেন চিত্রশিল্পী ইসাবেলা ওয়াটলিং। শুক্রবার অক্সফোর্ডে প্রতিকৃতি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অক্সফোর্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ এবং মালালার পরিবারের সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্বামী আসার মালিকও। অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কথা বলেন মালালা।

ভাষণে মালালা বলেন, ‘পাকিস্তানের সাংলা থেকে তানজানিয়ার মিয়নকংগো স্কুল অথবা উত্তর লন্ডনের হ্যারো হাইস্কুল—যেখানেরই মেয়ে হোক না কেন, আমি আশা করি এই স্বীকৃতি সব জায়গার শিক্ষার্থীদের একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে। বার্তাটি হলো তারা এখানকারই অংশ এবং এই হলগুলোর ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় নিজেদেরই দেখতে পাবে।’

পরে জিও নিউজের সঙ্গে আলাপচারিতায় মালালা বলেন, পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো তাঁর জন্য একটি অনুপ্রেরণা। বেনজিরের মতো তাঁর প্রতিকৃতিও মার্গারেট হলে স্থান পাওয়াটা সম্মানের। বেনজির শুধু পাকিস্তান নয় বরং পুরো বিশ্বের নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা। তিনি বেনজিরকে সব সময় শ্রদ্ধা করে এসেছেন।

অক্সফোর্ড পাকিস্তান প্রোগ্রামের সহপ্রতিষ্ঠাতা তালহা জে পিরজাদা বলেন, ‘মালালা ইউসুফজাই শুরু থেকেই অক্সফোর্ড পাকিস্তান প্রোগ্রামের দৃঢ় সমর্থক। শিক্ষা ও সমতার প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের মাধ্যমে পাঁচজন অসাধারণ পাকিস্তানি নারীর জন্য অক্সফোর্ডের দরজা খুলে দিতে সহায়তা করেছেন তিনি। ওই নারীদের সবাই লেডি মার্গারেট হলে পড়াশোনা করেছেন।’

মালালা ইউসুফজাইয়ের জন্ম ১৯৯৭ সালের ১২ জুলাই—উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায়। পশতুন জাতিগোষ্ঠীর এক সুন্নি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তালেবানের বাধার পরও নারী শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে যাওয়ায় ২০১২ সালে তাঁকে গুলি করা হয়; কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান।

নারীশিক্ষা বিস্তারের পক্ষে কাজ করার জন্য মালালা ইউসুফজাই সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসিত হন। তারই স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে ভারতের কৈলাস সত্যার্থীর সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পান মালালা। ২০১৭ সালে জাতিসংঘ তাঁকে শান্তির দূত হিসেবে নিয়োগ করে। ২০১৩ সালের ১২ জুলাই তাঁর ১৬তম জন্মদিনে ‘মালালা দিবস’ ঘোষণা করে জাতিসংঘ।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.