পটুয়াখালীর ইসহাক সিকদারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় জানা যাবে সোমবার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়পটুয়াখালীর ইটাবাড়িয়া গ্রামে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, ১৭ জনকে হত্যা এবং অন্তত ১৫ নারীকে ধর্ষণের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে।
বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রোববার রায় ঘোষণার জন্য সোমবার দিন ঠিক করে দেয়। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ৩০ মে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিল আদালত।
ইসহাক সিকদারের সঙ্গে এই মামলার অন্য চার আসামি হলেন, আব্দুল গণি হাওলাদার, আব্দুল আওয়াল ওরফে মৌলভী আওয়াল, আব্দুস সাত্তার প্যাদা ও সোলায়মান মৃধা। তারা সবাই গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পাঁচ আসামির সবাই একাত্তরে ছিলেন মুসলিম লীগ সমর্থক। আর ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তারা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতায় দাঁড়িয়ে একাত্তরে রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান বলে অভিযোগ করা হয়েছে এ মামলায়। গত বছর ৮ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর এই পাঁচ আসামির বিচার শুরু করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ অল মালুম ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান ও সালাম খান।
অন্যদিকে আসামিদের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, হত্য ও ধর্ষণের যে দুটি অভিযোগ প্রসিকিউশন এনেছে, সে বিষয়ে একটি প্রদর্শনী (এক্সিবিট) ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে তারা।
“সেখানে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম ওই ঘটনার তদন্ত করে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনে ওই দুটি ঘটনায় যেসব ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা এসেছে, সেখানে এই আসামিদের নাম নেই।” “এছাড়া যেসব ভিকটিম ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের তদন্তের সময়ও তাদের ভিডিও জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কিন্তু এই সাক্ষিরা এ মামলার পাঁচ আসামির কথা বলেননি।”
আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, প্রসিকিউশন তা প্রমাণ করতে ‘ব্যর্থ হয়েছে’ দাবি করে আইনজীবী পালোয়ান বলেন, “আমি মনে করি আসমিরা খালাস পাবেন।”
প্রসিকিউশনের তদন্ত দল পটুয়াখালীতে কাজ শুরু করার পর ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল এই ৫ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ওই বছর ১ অক্টোবর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর ১৭ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় আদালত। ২০১৭ সালের ৮ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পাঁচ আসামির যুদ্ধাপরাধের বিচার। ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর এটি হবে ৩৪তম রায়।