ঠাকুরগাঁওয়ে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ভাতিজা জীবনের ছুরিকাঘাতে আহত তানজিনা আক্তার (২০) দীর্ঘ সাতদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
তানজিনা আক্তার শহরের গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সেবিকা (নার্স) ছিলেন। তার বাড়ি সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের মাদরাসাপাড়ায়।
জানা যায়, গেল ২০ জুন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে কর্মস্থল চক্ষু হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তানজিনা। এ সময় পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠে, বুকে ও হাতে কুপিয়ে জখম করে জীবন। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২১ জুন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তানজিনার বাবা হামিদ আলী অভিযোগ করে বলেন, জীবন প্রতিদিন এলাকার বিভিন্ন মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতো। ভুক্তভোগী স্কুলগামী ছাত্রীরা আমার মেয়েকে অভিযোগ দেয়। এরপর আমার মেয়ে জীবনকে শাসন করে। এরই জের ধরে সে আমার মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ব্যাপারে ওই দিন সন্ধ্যায় তানজিনার বাবা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে জীবনের নাম উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার এজাহার, ঠাকুরগাঁও গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের নার্স তানজিনা আক্তার প্রতিদিন সকালে হাসপাতালে যাবার রাস্তায় তাকে ও অন্য মেয়েদেরকেও আরমান ইসলাম জীবন ও তার কিছু সহযোগী উত্যক্ত করতো। এসব দেখে তানজিনা তাদের বাধা দিতো এবং বিষয়টি তাদের পরিবারে জানানোর কথা বলতো। ঘটনার দিন তানজিনা কর্মস্থলে যাবার উদ্দেশ্যে তার বাড়ি থেকে বের হয়।
সে সময় বখাটে জীবন ও তার সহযোগীরা তানজিনার পথরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ডান হাতে, বুকে এবং পেটে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তানজিনা চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায় এবং উদ্ধারকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তানজিনাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে আইসিইউ তে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পরে বৃহস্পতিবার সকালে তানজিনার মৃত্যু হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, তানজিনার মৃত্যুর কথা শুনে মর্মাহত হয়েছি। এজাহার ভুক্ত আসামি জীবনকে আমরা ঘটনার দিনই গ্রেফতার করেছি। এখন তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।