ব্রাজিল বিশ্বকাপ যেখান থেকে শেষ করেছিলেন যেন এবার সেখান থেকেই শুরু করলেন হামেস রদ্রিগেজ। চোটের জন্য গেলা ম্যাচের শেষ দিকে নেমেছিলেন। আহামরি কিছু করতে পারেননি। পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রোববার মাঠে নেমেই নিজের সেরাটা উপহার দিলেন। গোল করেননি তিনি। কিন্তু তিনটি গোলের মধ্যে দুটির পেছনেই অবদান রেখে নির্বাচিত হলেন ম্যান অফ দ্য ম্যাচ।
আসলে এদিনের ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা ছাড়া আর কারও কথা ভাবার উপায়ও নেই। কারণ যে খেলাটা উপহার দিয়েছেন, তা প্রতিকূল অবস্থা থেকে দলকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে।
মিনা, ফ্যালকাও, কুয়াড্র্যাডোরা গোল করতে পারেন, কিন্তু গোলের পিছনে সিংহভাগ অবদান ছিল ২৬ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের। ৪০তম মিনিটে গোলের ফাইনাল পাসটি বাড়িয়ে ছিলেন তিনিই। যে পাস বাড়িয়েছিলেন, সেখান থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করতে না পারাটাই অপরাধ। না, কোনও ভুল করেননি মিনা। বার্সেলোনা তারকা হেডে এগিয়ে গিয়েছিল কলম্বিয়া। তখনই লেখা হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ভবিষ্যৎ।
পেকারম্যানের শিষ্যরা এগিয়ে গিয়ে একটিবারের জন্যও আক্রমণের পথ থেকে সরে আসেননি। আর তার ফলশ্রুতিতেই পোল্যান্ড অল আউট আক্রমণে ঝাঁপাতেই পারেনি। এরই মধ্যে ম্যাচের ৭০ মিনিটে অধিনায়ক ফ্যালকাওয়ের গোল। আর তার পাঁচ মিনিট বাদেই রদ্রিগেজের পাস ধরে সোলো রানে পরাস্ত করলেন পোলিশ গোলরক্ষককে। তিন গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর কিছুই করার ছিল না পোল্যান্ডের।
রবার্ট লিউয়েনডস্কি চেষ্টা করেও কোনও ফসল তুলতে পারেননি। ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচের শেষ লগ্নে বার্য়ানের এই স্ট্রাইকার একটি শট দক্ষতার শীর্ষে উঠে বাঁচান গোলরক্ষক অরিসন। আরও একবার পোলিশ অধিনায়ক একা গোলকিপারকে পেয়েও তাঁর গায়ে বল মারেন। তখন গোল হলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত।
এই ম্যাচ শেষে বায়ার্ন সতীর্থ রদ্রিগেজকে ট্যাগ করে একটি লিউয়েনডস্কির একটি টুইট পোস্ট সামনে আসে। ২০১৭ সালে ডিসেম্বরে রাশিয়ার বিশ্বকাপের ড্রয়ের পর দেয়া ওই পোস্টে লিউয়েনডস্কি লিখেন, গত বিশ্বকাপে তোমার করা চমৎকার গোলগুলো দেখেছি। এবার আমারগুলো দেখে তুমি মনে রাখবা।
যদিও চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ছিটকে গেছে দল। গেলো দুই ম্যাচে একটিও গোল পায়নি ২৯ বছর বয়সী পোলিশ দলপতি।