Sunday, September 6

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৬ বছর পূর্ণ হলেও আজও কাঁন্না থামেনি রেবেকা’র

0

আল হেলাল চৌধুরী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদ প্রতিনিধি: সময়ের সাথে সাথে দেশের গার্মেন্টস খাতের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা রানা প্লাাজা ধ্বসের স্মৃতিও বিলীন হতে শুরু চলেছে। কিন্তু এখনো থেমে থেমেই কান্নার রোল উঠে স্বজন হারানো পরিবারগুলোতে। আজ বুধবার এই ট্র্যাজিডির দিনটি ৬ বছর পূর্ণ হলো, গত ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল এই দিনে সেই মার্মাান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনার ৬ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো ৫১ শতাংশ শ্রমিক কর্মহীন রয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন শ্রমিক অধিকার সংস্থাগুলোর।

সাভারের রানা প্লাাজা ধ্বসের এই দিবসটিকে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন রানা প্লাাজায় ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের।
রানা প্লাাজা ধসের ঘটনায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বারাই হাট এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিক রেবেকা খাতুন দু’পা হারিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছে।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বারাই হাট এলাকার চেয়ারম্যান পাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দু’পা হারানো রেবেকা খাতুনের বাড়ীতে, সে তার দুই বছরের কন্যা সন্তানকে পাশে রেখে অনেক কষ্ট করে চুলায় রান্না করছেন। রেবেকা রানা প্লাাজা ধসের ঘটনায় আহত শ্রমিকদের মধ্যে সবচাইতে বেশিদিন হাসপাতালে ছিলেন। পুরোপুরি সুস্থ্য হতে প্রায় ১০ মাসের মতো তাকে হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। দুই পায়ে মোট আটবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। ঐ দুর্ঘটনায় তিনি তার মা সহ পরিবারের আরো দুইজনকে হারিয়েছেন।

কান্না বিজরিত কন্ঠে রেবেকা খাতুন বলেন, রানা প্লাাজা ধসের ঘটনার ৬ বছর হয়ে গেলেও এখনো দুঃসহ স্মৃতি তাড়া করে ফেরে তাকে। রানা প্লাাজা ধসের দুই বছর আগে পছন্দ করে মোস্তাাফিজুর রহমানকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর রানা প্লাাজা ধসে মোস্তাাফিজুর আর রেবেকার সুখের সংসার লন্ডভন্ড হয়ে যায়। রানা প্লাাজার ইট-পাথরের স্তুপে হারিয়ে যান মা চান বানু বেগম। মারা যান দাদি ও ফুফু।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর তাঁর জ্ঞান ছিল না। দুই দিন পর জ্ঞান ফিরে এলে দেখে সে পায়ের ওপর সিমেন্টের বিম চাপা,অন্ধকার এক জায়গায় পড়ে আছেন তিনি । তখন চিৎকার করতে থাকলে কয়েকজন উদ্ধারকর্মী কাছে আসেন। কিন্তু বোঝা তার শরিরে চাপা থাকায় তখনও উদ্ধার করতে পারেনি তারা। এ সময় রেবেকা উদ্ধার কর্মীদের তাঁর স্বামীর মুঠোফোন নম্বর দেন। পরে তাঁর স্বামী এসে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করেন। ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে দীর্ঘ এক বছর রেবেকাকে চিকিৎসা নিতে হয়। বাম পা কোমর পর্যন্ত ও ডান পা গোড়ালি পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে তার।

রেবেকা খাতুন জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন। সেটি স্থায়ী আমানত হিসাবে ব্যাংকে আছে। সেই স্থায়ী আমানতের টাকা দিয়ে কোনমতে তাদের সংসার চলে। তার দেখাশুনার জন্য তার স্বামী বাহিরে কাজ করতে পারেনা। তিনি বলেন আমার স্বামী আমার প্রসাব পায়খানা পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে ঘর সংসারের সব কাজ করেন। এখন আর আমাদের কেউ খোজ নিতে আসে না।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.