Sunday, August 9

রেল যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় আরএনবির এক ইন্সপেক্টর ক্লোজ, বাদী হয়েও হাবিলদার শো-কজ

0

বাংলাদেশ রেল পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর পুরাতন সেল ডিপোতে গত ১৯শে মার্চ ২০২২ ইং তারিখে চুরির ঘটনায় দুজন চোর আটক ও পরবর্তীতে জেল ফেরত আসামী আকরামের জবান বন্দীতে উল্টো ফেসে গেলেন বাদী আনোয়ার হোসেনসহ রেল নিরাপত্তা বাহিনীর ইন্সপেক্টর ইসরাইল মৃধা, সিপাহী মোহাম্মদ আলী।
জানা যায়, হরহামেশাই চুরি হয় সেইল ডিপো, লোকোসেড, ডিজেল সপ ও পাহাড়তলী কারখানায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রেল কর্মকর্তা বলেন, যারা চোর ছিল তারা প্রায় সময় এখান থেকে পুরাতন মালামাল চুরি করেন। তারা চিহ্নিত আসামী বলেও জানা যায়। আকরাম আলী রেলের নিয়মিত চোর ও আগেরও কয়েকটি মামলার আসামী।
পুরাতন সেল ডিপো থেকে কর্তব্যরত আর এন বি সদস্যদের অগোচরে চোরচক্ররা রেলওয়ের মালামাল চুরি করিয়া যাবার সময় তাদের ধাওয়া করিলে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিডিও ফুটেজ সুত্রে চোর চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করে দুজনকে আটক করে রেল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডেন্ট পূর্ব শফিকুল ইসলাম , চীফ ইন্সপেক্টর রেজওয়ানুর রহমান, চীফ ইন্সপেক্টর সালামত, চীফ ইন্সপেক্টর ইসরাইল মৃধা, চীফ ইন্সপেক্টর মামুন সিকদারসহ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা । তারা প্রথমে আকরাম ও পরে বেলাল নামে দুজন চোরকে আটক করে। পরবর্তীতে আটককৃত দুই চোরের বিরুদ্ধে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বিকারোক্তির ভিত্তিতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহাড়তলী কারখানা শাখায় চৌকিতে হাবিলদার আনোয়ার নিজে বাদী হয়ে মামলা রুজু করেন। সেই মামলায় আকরাম ও বেলাল নামে দুজনকে আটক দেখান আরএনবি। জেল থেকে বেরিয়ে জামিনে আসা আসামীদের জবানবন্দিতে ক্লোজ হলেন চীফ ইন্সপেক্টর ইসরাইল মৃধা, শো-কজ খেলেন হাবিলদার আনোয়ার হোসেন ও সিপাহী মোহাম্মদ আলী। আসামী আকরাম আলীর বক্তব্য মতে , গত ২২শে মার্চ ২০২২ইং তারিখে চোর সন্দেহে আকরাম আলীকে ধরে এনে নির্যাতন করে জোড়পূর্বক স্বিকারোক্তি আদায় করেছে ইন্সপেক্টর ইসরাইল মৃধা, হাবিলদার আনোয়ার হোসেন, সিপাহী মোঃ আলী।
এ বিষয়ে ক্লোজ হওয়া ইন্সপেক্টর ইসরাইল মৃধা বলেন, আমরা চোরকে আটক করেছি। অথচ চোর নিজের নিজের অপরাধকে আড়াল করতে আমাদেরকে জড়িয়েছে। চোর থেকে কথা নিতে হলেতো, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই হবে। সেটা যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তবেতো পৃথিবীতে কোন চোর ধরা যাবেনা। চোরের জবানবন্দী অনুযায়ী তদন্ত ছাড়াই আমাকে কেøাজ করা হয়েছে।
এই মামলার বাদী হাবিলদার আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি মামলা করেছি, আসামী ধরা হয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছে। অথচ চোরের কথা অনুযায়ী আমাকেও শোকজ করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়ে যদি নিজেই আসামী হয়ে যেতে হয়, তবে ভবিষ্যতে কিভাবে চোর শনাক্ত করবো নিশ্চয় কর্তপক্ষ সে ধরনের পরামর্শ দিবেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কমান্ডেন্ট শফীকুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখা কালীন সময়ে ইসরাইল মৃধাকে কেøাজড ও হাবিলদার আনোয়ার হোসেন ও সিপাহী মোহাম্মদ আলীকে শো-কজ করা হয়েছে। কারন চোরের স্বীকারোক্তির জন্য কোর্ট আছে, আইন আছে। কোর্টের আদেশ ছাড়া কাউকে মাইরদৌড় করে ¯¦ীকারোক্তি আদায় করা কোন সংবিধানে নাই। কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন হাতে তুলে নিতে পারেনা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ১ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। আশা করি, ঈদের আগেই হয়তো রিপোট পাওয়া যেতে পারে। তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন কতৃপক্ষ।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.