Thursday, September 17

রোহিঙ্গাদের জমি দখলে বাংলাদেশি বৌদ্ধদের লোভ দেখাচ্ছে মিয়ানমার

0

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের পরিত্যক্ত জমিতে আবাস গড়ে তুলতে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ পরিবার সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে এএফপি।

বাংলাদেশের পাহাড় ও বন এলাকায় বসবাসরত ৫০ পরিবার ‘ফ্রি খাবার ও জমি’র লোভে এরই মধ্যে রাখাইন রাজ্যে পৌঁছেছে। স্থানীয় কাউন্সেলর মুইং সুই থিওয়ি এএফপিকে বলেছেন, মার্মা ও ম্রো জাতি পরিবার তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। গত মাসে সাঙ্গু থেকে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে গেছে ২২ পরিবার।

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনে ফেসবুকের ভূমিকা রয়েছে এমন অভিযোগ স্বীকার করেছেন সামাজিক মাধ্যমটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। তিনি বলেছেন, খবরের নামে গুজব ছড়ানোর মধ্য দিয়ে মুসলিম ও রোহিঙ্গাবিদ্বেষী মনোভাবে উসকানি ও প্রণোদনা জোগানোর কাজে ফেসবুককে ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ভক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ স্বীকারোক্তি করেন জাকারবার্গ।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানায়, রোহিঙ্গা নিধনে ফেসবুকের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। অ্যামনেস্টির এ অভিযোগ স্বীকার করে জাকারবার্গ বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হয়েছে। রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সম্ভাব্য গণহত্যা তদন্তে নিয়োজিত অ্যামনেস্টির মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিদ্বেষী প্রচারণায় ফেসবুক ভয়াবহ ভূমিকা রেখেছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত বলেছেন, রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা সংকটে গণহত্যার আভাস পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কাউন্সিলর মুইং সুই থিওয়ি বলেছেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা থেকে মারমা ও ম্রো উপজাতি পরিবার তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। তিনি বলেন, সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গেলো মাসে ২২ পরিবার তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।

মুইং সুই থিওয়ি বলেছেন, চলে যাওয়া পরিবারগুলোর বেশিরভাগই বৌদ্ধ। তবে কিছু খ্রিস্টান পরিবারও রয়েছে। তাদের পাঁচ বছরের জন্য ফ্রি জমি, নাগরিকত্ব ও ফ্রি খাবারের ‘লোভ দেখিয়েছে মিয়ানমার’।
তিনি আরও বলেন, তারা বার্মায় (মিয়ানমার) রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা খালি জমিতে বসবাস করবেন। চলে যাওয়া পরিবারগুলো খুব গরিব।

গেলো বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করার পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, রাখাইনে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.