লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনের সাথে ওই উপজেলার ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্বের অবশেষে অবসান হয়েছে। কয়েক দফা বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের উপস্থিতিতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)’র টাকা বন্টনের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের অবসান না হলে এডিপি’র বরাদ্দ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ফেরত যেতে পারে এমন আশংকায় এ দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে বলে জানা গেছে। তবে জুন ক্লোজিং’র আগে এ সমঝোতা হলেও তা কত দিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান মামুন আওয়ামীলীগের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন বাচ্চুকে পরাজিত করে গত বছরের ১০ মার্চ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। মশিউর রহমান মামুন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তার সাথে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের দুরুত্ব তৈরী হয়। উপজেলা পরিষদের অতি গুরুত্বপুর্ণ সভায় তার পিতা টংভাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান আতি ও বড়খাতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা জামাল সোহেল ছাড়া অধিকাংশ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকেন না। ফলে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনকে অধিকাংশ সময় দেখা যায় না।
একটি সুত্র মতে, এসব দ্বন্দ্ব নিরাসনে গত ২০ ফেব্রুয়ারী ওই উপজেলার সির্ন্দুনা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সফলতা আসেনি। এর মধ্যে এ উপজেলার জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)’র ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। ওই টাকা চলতি অর্থ বছরেই খরচ করতে হবে। কিন্তু টাকা বন্টন করতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মধ্যে সমঝোতা জরুরী হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষ থেকে দ্বন্দ্ব অবসানের জন্য সমঝোতার প্রস্তাব আসে। সেই প্রস্তাবের আলোকে গত ১১ জুন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১২ জুন সকল চেয়ারম্যান ঢাকায় গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের সাথে সাক্ষাতও করেন।
দীর্ঘ ১ বছরের বেশি সময় পর গত বৃহস্পতিবার হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের এক সাথে দেখা যায়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনও। পরে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা।
তবে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সমঝোতাকে দেখছেন ভিন্ন ভাবে। তিনি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সবাই জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। এখানে সমঝোতা বা দ্বন্দ্বের কি আছে ? দীর্ঘ দিনেও সমঝোতা হলো না কি কারণে ? কিন্তু জুন কো¬জিং’র আগে হঠাৎ করে সমঝোতা কি কারণে ? পাশাপাশি জুন ক্লোজিং শেষে এ সমঝোতা কত দিন স্থায়ী হবে তা নিয়েও সংশয় আছে।
এ প্রসঙ্গে সির্ন্দুনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরল আমিন বলেন, গত ১১ জুন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে হলো। বিষয়টি ভালো হয়েছে। আর বড়খাতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা জামাল সোহেলের কাছে সমঝোতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বার্থ দেখে সবাই দৌড়ায়। তবে আমার মনে হয় না এ সমঝোতা টিকবে।
হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইচ চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের হস্তক্ষেপে আমাদের মাঝে যে দুরুত্ব তৈরী হয়ে ছিলো তার অবসান হয়েছে। আমরা সবাই বিষয়টিকে ইতি বাচক হিসেবে গ্রহন করেছি। অপর ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিরু বলেন, আমাদের মাঝে দুরুত্ব তৈরী হওয়ায় গত ১ বছরে উপজেলা পরিষদকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন বলেন, ফেব্রুয়ারী মাসেই আমাদের সকল দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। করোনার কারণে আনুষ্ঠানিকতার বাকি ছিলো মাত্র। আজ স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে উপজেলা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিন বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মধ্যে একটু দুরুত্ব সৃষ্টি হয়ে ছিলো। আজ সেই দুরুত্বের অবসান হয়েছে। ফলে উপজেলা পরিষদ আরো গতিশীল হবে বলে বিশ্বাস রাখছি।