লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লালমনিরহাটের দোকানগুলোতে গরম কাপর বিক্রিরও হিড়িক পড়ে গেছে। ফুটপাতও এখন শীতবস্ত্রের দখলে। প্রায় সব এলাকায় শীতবস্ত্রের বিক্রি বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ছোট বাচ্চা ও বয়স্কদের কাপড়।
সরেজমিনে দেখে গেছে, শীতের জ্যাকেট, সোয়েটার, জাম্পার, মাফলার, কম্বল ও কানটুপিসহ নানা রকমের শীতের পোশাক কিনতে ফুটপাতেই বেশী ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। ক্রেতা বিক্রেতাদের দাম নিয়ে যুক্তিতর্কে জমে উঠেছে শীতের কাপড় বেচাকেনার মার্কেট ও ফুটপাতগুলো। তবে ক্রেতাদের মধ্যে নারী ক্রেতার সংখ্যা বেশি লক্ষ্য করা গেছে এসব জায়গায়। ক্রেতারা বলছেন, শীতের শুরুতে কেনা পোশাক এ তীব্র শীতে কোনো কাজে লাগছে না। তাই তারা আবার ছুটছেন কনকনে শীত থেকে বাঁচতে পারেন এমন পোশাকের সন্ধানে। আর ক্রেতাদের এ চাহিদাকে পুঁজি করে বিক্রেতারা দাম ধরছেন ইচ্ছেমত।
গত কয়েকদিনের তীব্র শৈত্যপ্রবাহে অনেকটা অসহায় করে তুলেছে। আর এ সুযোগ নিয়ে হকাররাও শীতের পোশাকের দাম হাঁকাচ্ছেন দ্বিগুণ। কয়েকদিন আগেও যে পোশাক ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন কমপক্ষে ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আর বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে শীতের কাপড়ের চাহিদা অনেক বেশি। বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করলেও গত কয়েকদিন যাবৎ দাম একটু বেশিই বলে স্বীকার করেন একাধিক বিক্রেতা।
হাতীবান্ধা উপজেলার আমতলা বাজারে ফুটপাতে কাপর ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন জানান, বর্তমানে শীতের পোশাকের চাহিদা অনেক বেশি। তাই দোকানে অনেক কাপর তুলেছি। কয়েকদিন আগে দিনে বিক্রি হতো ১ থেকে দেড় হাজার টাকা। আর শীত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
শীতের জামা কিনতে আসা তহমিনা খাতুন জানান, শীতের শুরুতে কিছু পোশাক কেনা হয়েছে। কিন্তু তীব্র শীতে ওই পোশাক কোনো কাজে লাগছে না। এখন সব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় প্রচুর। আর এ সুযোগে বিক্রেতারাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। কয়েকদিন আগেও যে কাপড় ৩/৪ শত টাকায় ছিল, এখন তা ৭/৮ শত টাকার কমে দিতেই চাইছে না।
হাতীবান্ধা উপজেলার সুচনা হলের পাশের ফুটপাতের কাপর বিক্রেতা নুর উদ্দিন বলেন, গত ৩/৪ দিনে যে পরিমাণ বেচাকেনা হয়েছে, তা গত দেড় মাসেও হয়নি।