Friday, August 21

লালমনিরহাটে প্রতিবন্ধি শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ

0

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটে প্রতিবন্ধি এক শিশুকে(৯) বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে মোবারক আলী(৬০) নামে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। হাসপাতালে যেতে বাঁধা দেয়ায় ভ্যান চালক বাবা বাড়িতে রেখেই ছেলের মৃত্যুর প্রহর ঘুনছেন।
বৃহস্পতিবার(২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্দুরীয়া ওজাটারীতে নিজ বাড়িতে বিছানায় শিশুটিকে ছটফট করতে দেখা গেছে।

এর আগে বুধবার(২০নভেম্বর) বিকেলে কাজ দেয়ার কথা বলে পাশ্বর্তি কোটেশ্বর বিলে নিয়ে গিয়ে মুখ চেপে শিশুটিকে বলৎকার করে মোবারক আলী। ব্যবসায়ী মোবারক আলী পাশ্বর্তি গ্রামে কুড়িগ্রামের বাজারহাট উপজেলার গড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ভীমশর্মা গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা ও শিশুটির পরিবার জানান, ব্যবসায়ী মোবারক আলীর স্ত্রী দুই বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে গ্রামের বিভিন্ন জনের শ্লীলনতাহানীর ঘটনা ঘটাচ্ছেন এবং টাকার বিনিময়ে সব ধামাচাপা দিচ্ছেন। বুধবার(২০ নভেম্বর) বিকেলে ক্ষেতের আবর্জনা পরিস্কারের কাজ দেয়ার কথা বলে পাশে ওজাটারী গ্রামের ভ্যান চালকের বাক প্রতিবন্ধি শিশুকে কোটেশ্বর বিলে ডেকে নেয় মোবারক। এ সময় কেউ না থাকায় ওই শিশুর মুখ চেপে ধরে জোরপুর্বক বলাৎকার করে ব্যবসায়ী মোবারক আলী। স্থানীয়রা এক কৃষক বিষয়টি দেখে ফেললে তাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। পরে ওই কৃষক শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌছে দেন। শিশুটি অসুস্থতা অনুভব করলে বিষয়টি বাড়িতে জানাজানি হয়।

শিশুকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে মোবারক আলী লোকজন পাঠিয়ে পথিমধ্যে ফেরায়ে দেন এবং রাতেই বৈঠকে মিমাংসা করার প্রস্তাব দেন। এ দিকে বৃহস্পতিবার দিনভর শিশুটির পায়খানা করতে না পেয়ে মরণ যন্ত্রনায় ছটফট করলেও তাকে হাসপাতালে নিতে দেয়া হয়নি বলে শিশুটির পরিবার দাবি করেন। ভ্যান চালক বাবা প্রতিবন্ধি ছেলেকে নিয়ে পড়েছেন বড় বিপাকে।

শিশুটির বাবা বলেন, মোবারক এলাকার সব থেকে টাকাওয়ালা লোক। তার কথা সবাই শুনে। তার শ্যালক কালাম লালমনিরহাট থানায় পুলিশ কনস্টবল হিসেবে চাকুরী করে। মামলা করেও কোন ফল হবে না। আমরা গরিব মানুষ। আল্লায় ওদের বিচার করবে।

তবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মোবারক আলী বলৎকারের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বলাৎকার নয়, ছেলেটা আমার সাথে বিলে গিয়েছিল। সেখানে রেখে আমি বাড়ি এসেছি। তবুও গ্রামে কয়েকজন নিয়ে রাতে বৈঠকে বসে বিষয়টা মিমাংসা করা হবে।

লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, বিষয়টি জানা নেই। এ ঘটনায় কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে ওই অসুস্থ ছেলেটাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হবে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক পিপিএম সেবা বলেন, অপরাধিদের সাথে সখ্যতা থাকলে অবশ্যই ওই কনস্টবলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.