লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লিগ্যাল নোটিশ ও শোকজের পর নকসা পরিবর্তন করে লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনঃনির্মান কাজে স্থাগিতাদেশ দিয়েছেন আদালত।
লালমনিরহাটের সিনিয়র সহকারী জজ আদালত মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মান কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।এর আগে সোমবার(১৭ ফেব্রুয়ারী) নকশা পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনঃনির্মান কাজ নিয়ে লালমনিরহাট পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টুকে ১০ দিনের সময় দিয়ে শোকজ করেন একই আদালত।
আদালত ও লিগ্যাল নোটিশ সুত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট পৌরসভার সাপ্টানা মৌজার মাতৃ মঙ্গল কেন্দ্রের পাশে ১৯৭২ সালে ১৪.৫০ শতাংশ জমির উপর সড়কের পাশে পশ্চিম মুখো দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে জেলাবাসী বিভিন্ন কর্মসুচি এ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পালন করে আসছেন। এরই মাঝে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে আলিসান বাড়ি নির্মান করেন জেলার প্রভাবশালী শাখাওয়াত হোসেন সুমন খাঁন। যা শহীদ মিনারের কারনে দৃষ্টির আঁড়ালে পড়ে।
প্রভাবশালীর এই আলিসান বাড়িটি দৃষ্টিনন্দন করতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি স্থান্তর করতে এবং পুনঃনির্মানের নামে নকসা পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মান কাজ শুরু করে পৌরসভা। ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৭ টাকা ব্যায়ে পুনঃনির্মান করা শহীদ মিনারের মুল বেদি পরিবর্তন করে উত্তর-পুর্ব কোনায় নেয়া হচ্ছে। ফলে সড়কের চলাচলকারী সর্বসাধারনের দৃষ্টির আঁড়ালে চলে যাচ্ছে এবং দৃষ্টিহীন হয়ে জৌলুস ও মর্যাদা হারাচ্ছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
বিষয়টি নিয়ে জেলার সর্বস্থরের মানুষের মাঝে নিন্দার ঝড় উঠে। পুনঃনির্মান কাজ বন্ধ করতে আন্দোলনে নেমে পড়েন জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্থরের মানুষ। সরকারের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সৌন্দর্য ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে লালমনিরহাট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাংস্কৃতিক কর্মী সৈয়দ সুফী মোঃ তাহেরুল ইসলাম বাদি হয়ে আদালতের দারস্থ হন। যার প্রেক্ষিতে অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান হাফিজ শহীদ মিনার পুনঃনির্মান কাজ বন্ধ করতে ১৩ ফেব্রুয়ারী তিন দিনের সময় দিয়ে পৌরসভার মেয়রকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। সময় অতিবাহিত হলেও জবাব দাখিল না করে নির্মান কাজ চলমান রাখেন পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু।
এ ঘটনায় দ্রুত কাজ বন্ধ করতে লালমনিরহাট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাংস্কৃতিক কর্মী সৈয়দ সুফী মোঃ তাহেরুল ইসলাম বাদি হয়ে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা (৩০/২০২০) দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক আগামী ১০ দিনের মধ্যে ‘কেন নির্মান কাজে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞ দেয়া হবে না’ মর্মে উপযুক্ত ব্যাখ্যা চেয়ে পৌর মেয়রকে শোকজ পত্র পাঠানো হয়।
শোকজের জবাব দাখিলের আগেই মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন শেষে ২২ ফেব্রুয়ারী শহীদ বেদি ভেঙ্গে ফেলার আশংকায় বাদি পুনরায় আদালতের দারস্থ হন। শোকজের জবাব দাখিল না করা পর্যন্ত শহীদ মিনার পুনঃনির্মান কাজে স্থগিতাদেশ চেয়ে বুধবার(১৯ ফেব্রুয়ারী) আদালতে আবেদন করেন বাদি লালমনিরহাট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাংস্কৃতিক কর্মী সৈয়দ সুফী মোঃ তাহেরুল ইসলাম। আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে আদালত বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেন। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার(২০ ফেব্রুয়ারী) শুনানী শেষে মামলাটি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শহীদ মিনার পুনঃনির্মান কাজে স্থগিতাদেশ জারি করেন আদালত।
মামলার বাদি লালমনিরহাট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাংস্কৃতিক কর্মী সৈয়দ সুফী মোঃ তাহেরুল ইসলাম বলেন, মামলা করায় একটি মহল আমার ও আমার পরিবারের ক্ষতিসাধনের অপচেষ্টা করছে। এতে পরিবারসহ আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানী শেষে আদালত কাজের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। মামলাটি চুড়ান্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মান কাজ সমুলে স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
লালমনিরহাট পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টুকে তার ব্যবহৃত মোবাইলে কয়েক দফায় ফোন করেও তিনি রিসিভ করেননি।