একই আসরে ক্রিস গেইলও আছেন। তবু ছক্কা মারায় ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ এভিন লুইস গতকাল এক ম্যাচেই হাঁকালেন চলতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বোচ্চ ৯টি ছক্কা।
আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭টি ছক্কা যেখানে মেরেছেন চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়ক লুক রংকি, সেখানে ঢাকা ডায়নামাইটসের এই ক্যারিবীয় ওপেনারের একারই ২৩টি!
রংকির দলের বিপক্ষেই ছক্কার ঝড়ে দুই ম্যাচ পর আবার ছন্দে ফিরলেন লুইস। তাতে দুই ম্যাচ হারার পরে জয়ে ফিরল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরাও। তাও আবার জয়ে ফিরল এমনভাবে যে লুইসের বিধ্বংসী ইনিংসের সঙ্গে জো ডেনলি আর ক্যামেরন ডেলপোর্টের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের যোগফলে চিটাগং ভাইকিংসের ১৮৭ রানের বিশাল সংগ্রহকেও শেষ পর্যন্ত মামুলি বলে মনে হলো।
৭ বল বাকি থাকতে পাওয়া ৭ উইকেটের জয় কয়েক ঘন্টার জন্য ঢাকা ডায়নামাইটসকে ফিরিয়েছিল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। গত সন্ধ্যার ম্যাচে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে খুলনা টাইটানসের বিশাল জয়ে অবশ্য তাদের সেই শীর্ষস্থান অটুটট থাকেনি। আর সমানসংখ্যক ম্যাচে ষষ্ঠ হারে প্রথম দল হিসেবে বিপিএলের সেরা চারে যাওয়ার লড়াই থেকে ছিটকে পড়ল চিটাগং ভাইকিংস। দলটির অধিনায়ক রংকি এখন তাঁদের এটুকু লক্ষ্যই অবশিষ্ট আছে বলে জানালেন ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে, ‘আমরা পরের ম্যাচগুলোতে ভালো কিছু করে টুর্নামেন্টটি শেষ করতে চাই।
অথচ টিকে থাকার আশায় দলটির কালকের ব্যাটিং ছিল ভীষণ উৎসাহব্যঞ্জক। যথারীতি আবারও ঝড় তুলেছেন অধিনায়ক রংকি, ৪টি করে বাউন্ডারি আর ছক্কায় ৪০ বলে খেলেছেন ৫৯ রানের ইনিংস।
অবশ্য এদিন তাঁকে ছাপিয়ে যাওয়া মার এনামুল হকের (বিজয়) ব্যাটে। আধডজন ছক্কা আর তিন বাউন্ডারিতে ৪৭ বলে ৭৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে দলের বড় সংগ্রহ গড়া নিশ্চিত করে যান। যে কাজে শেষ ছোঁয়াটা ১১ বলে ২৬ রানের ইনিংসে দিয়ে যান সিকান্দার রাজা। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ঝাপটা সবচেয়ে বেশি গেল ঢাকা ডায়নামাইটস অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ওপর দিয়েই। রংকিকে ফেরালেও নিজের ৪ ওভারে তাঁর খরচ ৫১ রান!
হাই স্কোরিং ম্যাচেও অবশ্য আঁটোসাঁটো বোলিংয়ের দারুণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের সুনীল নারিন। আবারও ব্যর্থ সৌম্য সরকারকে (১) তুলে নেওয়া এই ক্যারিবীয় স্পিনার নিজের ৪ ওভারে ১৪টি ডট বলসহ খরচ করলেন মোটে ১১ রান। তিনি ছাড়া অন্যরা মার খাওয়ায় স্কোরবোর্ডে দেদার রান জমা করল চিটাগং ভাইকিংস। রান তাড়ার শুরুতে শহীদ আফ্রিদির (০) বিদায়ে তাদের জয়ের আশার পালে হাওয়া লাগে আরো। কিন্তু ওই পর্যন্তই। এরপর যে লুইসের ব্যাটিং তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড প্রতিপক্ষের বোলাররা।
জোন ডেনলিকে (৩৯ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৪৪) নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে গড়লেন ১১৮ রানের পার্টনারশিপ। ২৪ বলে ২ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় খেলা ডেলপোর্টের হার না মানা ৪৩ রানের ইনিংসটি সহজ জয়ের আনুষ্ঠানিকতাও সারল দ্রুতই। এর আগে আসল কাজটি লুইসের করে যাওয়া। ৩১ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ছক্কার সংখ্যা তাঁর মারা বাউন্ডারির (৩) তিন গুণ। ৯ ছক্কার চারটিই মেরেছেন বাঁহাতি স্পিনার সাঞ্জামুল ইসলামের একই ওভারে। এর তিনটি আবার ওভারের প্রথম তিন বলেই। ইনিংসের ওই নবম ওভার থেকেই তাই এলো ২৬ রান।
এমন ব্যাটিং হলে ভাইকিংরা নিরাপদ থাকে কী করে? তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ লুইসের নামের পাশে এখন ছক্কার পাশাপাশি আসর সর্বোচ্চ ৩১৪ রানও!