Friday, August 28

লেবাননকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবার হুমকি দিলেন ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী

0

ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে দেশটির সঙ্গে পশ্চিমা শক্তিগুলোর চলমান বাকযুদ্ধের মধ্যে এবার হিজবুল্লাহ-নেতানিয়াহুর কথার লড়াই শুরু হয়েছে। লেবাননে ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হুমকির জবাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল রবিবার ওই গোষ্ঠীসহ গোটা দেশ নিশ্চিহ্ন করে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। এদিকে একই দিন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান-ওয়াশিংটন দ্বন্দ্বের আরো অবনতির আশঙ্কার কথা বলেন। উত্তরোত্তর উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই ইরান ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয় সমাধান নিয়ে কথা বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলে হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরাল্লাহ বলেন, ‘ক্ষিপ্রতা ও শক্তিমত্তা নিয়ে ইসরায়েলে বোমা হামলার সক্ষমতা ইরানের আছে, তবে ইরান যুদ্ধ শুরু করবে না।’ তিনি এটাও বলেন, তেল আবিবসহ ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রসীমার মধ্যেই আছে।

নাসরাল্লাহর এসব বক্তব্যের জবাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গতকাল বলেন, ‘সপ্তাহান্তজুড়ে আমরা (ইসরায়েলের ওপর) হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নাসরাল্লাহর দাম্ভিক কথাবার্তা শুনেছি। একটা কথা আমি স্পষ্ট বলতে চাই, ইসরায়েলে হামলার মতো ভুল করার সাহস যদি হিজবুল্লাহ দেখান, তবে তাঁদেরকে এবং লেবাননকে সামরিক আঘাতে আমরা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব।’

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বাগ্যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের আরো দুটি পক্ষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার এ পরিস্থিতির মধ্যে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ ইভেস লো দ্রিয়ান বলেন, ‘পরিস্থিতিটা মারাত্মক। পরমাণু চুক্তির কিছু শর্ত থেকে ইরানের সরে যাওয়ার বাস্তবতা বাড়তি দুশ্চিন্তা যোগ করেছে। (ইরানের) সিদ্ধান্তটা ক্ষতিকর। এক বছর আগে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার যে বাজে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছিল, সেটার একটা বাজে জবাব দিল ইরান।’ গতকাল ফ্রান্সের বাস্তিল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে পৌঁছে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন দ্রিয়ান। ইরানের পরমাণু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সে ব্যাপারে এ ফরাসি মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যুদ্ধ চায় না। আমি খেয়াল করেছি যে প্রত্যেকেই বলছে, তারা উত্তেজনা বৃদ্ধির দিকে এগোতে চায় না। প্রেসিডেন্ট রুহানি চান না, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও চান না—এমনকি উপসাগরীয় নেতারাও চান না। কিন্তু উত্তেজনা বাড়ানোর মতো বিষয় ঠিকই আছে, সেটাই ঝামেলার।’

বিভিন্ন পক্ষের নানা কথাবার্তার মধ্যে গত শনিবার ফোনে কথা বলেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। হান্ট জানান, উত্তেজনা বাড়াতে চান না বলে নিশ্চিত করেছেন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক। হান্ট টুইট করেন, ‘আমি তাঁকে পুনঃ নিশ্চত করেছি, (ইরানের তেলাবাহী জাহাজ) গ্রেস ওয়ানে থাকা জ্বালানি তেলের উৎস নিয়ে নয়, বরং এর গন্তব্য নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

ব্রিটেনের রয়্যাল নেভি গত ৪ জুন জিব্রাল্টর প্রণালি থেকে গ্রেস ওয়ান আটক করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জাহাজটি জ্বালানি তেল নিয়ে সিরিয়ায় যাচ্ছিল, এমন অভিযোগে সেটি আটক করা হয় এবং জিব্রাল্টরের আদালত সেটি আটকে রাখার পক্ষে রায় দেন। ওই জাহাজ ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে জারিফকে হান্ট বলেন, ‘ওটা সিরিয়ায় যাবে না, এমন নিশ্চয়তা পেলে জিব্রাল্টর আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জাহাজ ছাড়ার প্রক্রিয়া আমরা তরান্বিত করব।’

জারিফ-হান্ট ফোনালাপের তথ্য প্রকাশ করে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরো জানায়, হান্টকে জারিফ নিশ্চিত করেছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে ইরান তার জ্বালানি তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে চায়। গ্রেস ওয়ান সিরিয়ায় নয়, বরং ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে যাচ্ছিল, এমন কথাও বলেন জারিফ। তবে গ্রেস ওয়ানের গন্তব্য সুনির্দিষ্ট করেননি এ নেতা। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স। সংগৃহীত কালের কন্ঠ

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.