লোহাগাড়া প্রতিনিধিঃ ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করুন। ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি জাতির সভ্যতার প্রতীক। এই শ্লোগানে আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানায় ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্ভোধন করেন লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম ।
৯ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সমন্বয়ে একটি র্যালি বের করা হয়।
জনগণ এই র্যালিতে সাড়া দিলেও সকলের মনে একটি প্রশ্ন, এই ট্রাফিক সপ্তাহের সফলতা আসবে কী?
এই বিষয়ে মিজান নামক এক ভাই বলেন, আমি গতকাল কাওরান বাজার তেজগাঁও থেকে বসুন্ধরা, উত্তরা থেকে টুমিরপুর ঘুরলাম। আমি ঢাকার প্রত্যেকটি স্পটে ঘুরেছি এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। অতীব দুঃখের বিষয় মীরপুরে একবার আমার গাড়ি আটকিয়ে ট্রাফিকরা কাগজপত্র চেক করল, পুরো শহরজুড়ে আর কোথাও চেক করতে দেখা যায়নি। তাই আমার মনে হয়, তেমন কার্যকর ভুমিকা নিতে পারবেনা।
পথচারী একজন বলেন, আমি বলব আগে ট্রাফিকরা টোকেন বানিজ্য বন্ধ করে ঈমানদারীর সাথে দায়িত্ব পালন করুন, তাহলে দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে। ট্রাফিক সপ্তাহ করে উন্নতি কী হবে? তার চেয়ে ঘুষ বন্ধ সপ্তাহ চালু করলে জনগণ লাভবান হবে।
মুহাম্মদ রায়হান উদ্দীন নামে একজন মন্তব্য করে বলেন, একটা শ্রেণি আছে তাদের কাজই হচ্ছে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। তারা ফেইসবুকে গুজব ছড়ায়ে তৃতীয়পক্ষের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন। আন্দোলনকারী কোমলমতি ছাত্রছাত্রিদের নিরাপত্তা শংকায় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা আজ নিরাপদ সড়কের দাবিতে সব দফা মেনে নিয়ে আন্দোলনরত কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সড়কে যে এই বেহাল অবস্থা তা যে ট্রাফিকদের কারণে তাও দেশবাসীসহ প্রশাসনের সবাই জানেন। কিন্তু ট্রাফিকদের ঘুষ নেওয়া বন্ধ করার জন্য কি পরিকল্পনা নিলেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এই ঘুষ বানিজ্য বন্ধ না করে ট্রাফিক সপ্তাহ করে তেমন কোন ফায়দা হবেনা।
আর কয়েকজন বলেছেন, রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। নইলে কঠিন শাস্তির বিধান রাখতে হবে।
ট্রাফিকরা টাকা নামের যেই ট্রপিটা ড্রাইভারদের কাছ থেকে গ্রহণ করেন তা বন্ধ করতে পারলেই ট্রাফিক আইন কাজে আসবে এবং বর্তমানে ডাকা এই ট্রাফিক সপ্তাহের সফলতা অর্জিত হবে।
এছাড়া যত আইনই করুক না কেন তা সংবিধানের ফাইলেই লেখা থাকবে। কাজের ক্ষেত্রে কিছুই হবেনা।