Tuesday, August 4

শতাব্দীর বিরল ‘ব্লাড মুন’ প্রত্যক্ষ করলো বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষ

0

একুশ শতকের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ‘ব্লাড মুন’ উপভোগ করেছে বিশ্বের অগণিত মানুষ। মহাজাগতিক এই অলৌকিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করলো বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে। ফলে পৃথিবী থেকে মনে হয় চাঁদ ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে। এ জন্যই এই চাঁদকে ডাকা হয় ‘ব্লাড মুন’।

শুক্রবার (২৭ জুলাই) দিনগত রাত ১১টা ১৩ মিনিট ৬ সেকেন্ডের পর থেকে চমকপ্রদ এই মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। ঢাকার আকাশে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয় রাত ১১টা ১৩ মিনিট ৬ সেকেন্ডে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ হয়েছে রাত ২টা ২১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে আর গ্রহণ শেষ হয়েছে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে।

এই গ্রহণ দেখার জন্য নানা আয়োজন করা হয়েছিল ঢাকাসহ সারা বিশ্বের প্রধান প্রধান সব জায়গায়। ঢাকায়ও বিজ্ঞান যাদুঘরের পক্ষ থেকে দেখা হয় ‘ব্লাড মুন’। এছাড়াও অনুসন্ধিৎসু বিজ্ঞান চক্রের পক্ষ থেকেও চন্দ্রগ্রহণ দেখানোর ব্যবস্থা ছিল।

এর আগে ২০০০ সালের ১৬ জুলাই ১০৬ মিনিট স্থায়ী চন্দ্রগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। ২০২৮ সালে ৩১ ডিসেম্বর পরবর্তী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দেখা মিললেও সেটা এবারের মত দীর্ঘ হবে না। এবারের চেয়ে দীর্ঘক্ষণ গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২১২৩ সাল পর্যন্ত।

এবারের চন্দ্রগ্রহণের সময় কক্ষপথে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব সব থেকে বেশি ছিল। ফলে পৃথিবীর ছায়াটিও দীর্ঘপথ জুড়ে বিদ্যমান ছিল।

গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে অনেকটা তামাটে বা লালচে চাকতির মতো মনে হয়েছিল। এর কারণ হল সূর্যের কিছু আলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের মধ্য দিয়ে বিচ্ছুরিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। লাল রঙ তুলনামূলকভাবে কম বিচ্ছুরিত হয় বলে সেটা চাঁদের উপর পড়ে, এই কারণে গ্রহণের চাঁদকে লাল দেখিয়েছিল।

এবারের চন্দ্রগ্রহণ সবচেয়ে ভালোভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছিল আফ্রিকার দক্ষিনাংশ, অষ্ট্রেলিয়া ও মাদাগাস্কারের মানুষজন। যদিও এটা ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিন আমেরিকার দেশগুলো থেকেও দেখা ‍গিয়েছে।

তবে ভারত, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বেশ কয়েকটি প্রান্তের মানুষজন খারাপ আবহাওয়ার জন্য পুরো চন্দ্রগ্রহণটি সার্বিকভাবে দেখার সুযোগ পায়নি।

মঙ্গলের পাশাপাশি এদিন অনেক এলাকা থেকে পৃথিবীর অন্যান্য প্রতিবেশী শুক্র, বৃহস্পতি ও শনিকেও ভালোভাবে দেখার সুযোগ মিলেছে বলে জানিয়েছেন জৌতির্বিদরা।

যে কারণে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ পরোক্ষ করেছে বিশ্বের অগণিত মানুষ: পৃথিবীর ছায়ার কেন্দ্রে অবস্থান করে চাঁদ। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর ছায়ার সবচেয়ে প্রশস্ত জায়গায় চাঁদ অবস্থান করে বলেই সবচেয়ে বেশিসময় ধরে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছে দর্শনার্থীরা।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.