হাবিব জুয়েল, রাজশাহী: ঢাকা-কলকাতা ও খুলনা-কলকাতার পর এবার আলোচনায় রাজশাহী-কলকাতা যাত্রীবাহী ট্রেন। এরই মধ্যে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ভারত। রাজশাহী-কলকাতার প্রস্তাবিত ট্রেনটি যাবে সিঙ্গাবাদ সীমান্ত দিয়ে। প্রতিবেশি দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়ে দেশগুলোর অংশগ্রহণে আগামী মাসে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নীতিনির্ধারণী আলোচনায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য।
অবিভক্ত বাংলায় মালদা কিংবা মুর্শিদাবাদ হয়েই কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল রাজশাহী। দেশ ভাগের পর সেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ভারত গমন ঠিকই করতে হয় এ অঞ্চলের মানুষকে। তাই তাদের যাতায়াত সুবিধার বিবেচনায় আবারও আলোচনায় এল রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর পরিকল্পনা। সম্প্রতি সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ভারতীয় হাইকমিশনারের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা পাঠান সে দেশের কাছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য বাদশা জানান, ভারতের রেলপথ বিভাগ প্রস্তাবনাটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক নিজেই রেলওয়ে উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-কলকাতা ও খুলনা-কলকাতা দুইটি মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন গেদে সীমান্ত দিয়ে চলাচল করলেও রাজশাহী-কলকাতার প্রস্তাবিত ট্রেনটি যাবে সিঙ্গাবাদ সীমান্ত দিয়ে।
রাজশাহীর মানুষের ভারত গমন প্রবণতা মাথায় রেখে ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর, সিঙ্গাবাদ, মালদা, ফারাক্কা হয়ে কাটুয়া, খাগড়াঘাট হয়ে হাওড়ায় পৌঁছানোর কথা আছে। এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খায়রুল আলম বলেন, ট্রেনটি চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েকে একটি চিঠি লিখেছেন। দুই দেশের থেকেই আলাপ-আলোচনা করে ট্রেনটি দ্রুতই চালুর চেষ্টা চলছে।