Tuesday, August 25

শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান দুবাইয়ে গ্রেফতার

0

বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তার গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছেন ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের বাংলাদেশ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম। তিনি বলেন, গত বুধবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারপোল। শিগগিরই তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই থেকে দেশে আনা হবে। সেই লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

মহিউল ইসলাম আরো বলেন, দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়ার সময় জিসানের কাছে ভারত ও ডোমেনিকান দুইটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃত জিসানের ছবি ঢাকায় পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। সেই ছবির সঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে থাকা জিসানের নতুন ছবির হুবহু মিল রয়েছে। সেই সূত্র ধরে আমরা নিশ্চিত হয়েছি দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়া ওই ব্যক্তিই জিসান।

আইনশৃংখলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, পলাতক সন্ত্রাসী জিসান একটি ভারতীয় পাসপোর্ট বহন করছেন। সেখানে তার নাম বলা হয়েছে আলী আকবর চৌধুরী। ওই পাসপোর্ট নিয়েই তিনি এতদিন দুবাই অবস্থান করছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত এক দশকে দেশের শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর নাম তালিকাভুক্ত করেছে। তাদের অন্যতম হলেন জিসান। তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বাড্ডা, ফকিরাপুল, পল্ট মতিঝিলসহ বেশ কিছু অঞ্চলে তার একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। ওই সব এলাকার সরকারি ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে নিয়মিত চাঁদাবাজি করতেন তিনি। ইন্টারপোল তার নামে রেড অ্যালার্ট জারি করে রেখেছে।

২০০১ সালের নভেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ঘোষণা করে। ওই তালিকায় জিসানের নাম ছিল না। মালিবাগ, মগবাজার, খিলগাঁও এলাকার আলোচিত এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। ২০০২ সালে মালিবাগে হোটেল সানরাইজ হোটেলে ডিবির দুই ইন্সপেক্টরকে সরাসরি হত্যা করে জিসান আলোচনা আসে। এরপরেই গা ঢাকা দেন। ২০০৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে সে দেশ ছাড়ে বলে ধারণা করা হয়। সেখানে ২০০৯ সালে একবার কলকাতা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। পরে ছাড়া পেয়ে কলকাতায় বসে ঢাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রন করে। বছর দুয়েক আগে থেকে জিসান ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে দুবাই চলে যায়। সেখানে ঢাকা থেকে অনেক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলে ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, যুবলীগ নেতা খালেদা মাহমুদ ভূঁইয়া ও জিসানের বৈঠক হয়। সেখানে ক্যাসিনো থেকে জিসান ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে।

সূত্র জানায়, সেসময় পালিয়ে ভারতে প্রবেশ করে জিসান। এরপর নিজের নাম পরিবর্তন করে আলী আকবর চৌধুরী নামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে।

সাম্প্রতিক দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে দুই যুবলীগ নেতা জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটকের পর তার (জিসানের) নাম ফের নতুন করে আলোচনায় আসে। তাদের মধ্যে একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পরে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বে জিসাইন শামীম ও খালেদকে হত্যা করতে লোক ভাড়া করেছিলেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.