Saturday, August 15

শেষমেস বান্দরবান রাজগুরু বিহার নবনিযুক্ত বিহারাধ্যক্ষকে বরণ করলো উচহ্লা ভান্তে শিষ্যরা

0

বান্দরবান জেলা শহরের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারে নবনিযুক্ত বিহারাধ্যক্ষ মহাথের ঞানাসিরি (জ্ঞানপ্রিয়) ৯তম রাজগুরু ভান্তেকে সবকিছু অবসান ঘটিয়ে শেষমেস বরণ করে নিয়েছেন প্রয়াত ৮তম মহাথের উ পঞঞা জােত মহাথের উচহ্লা ভান্তে বিহারের অবস্থানরত ভিক্ষুগণ শিষ্যরা।

সূত্রে জানা গেছে, ২৮মে রাজগুরু বিহারে নতুন বিহারাধ্যক্ষ অভিষেক অনুষ্ঠানে ওই বিহারের প্রয়াত উ পঞঞা জোত মহাথের উচহ্লা ভান্তের শিষ্যরা কেউই উপস্থিত ছিলােনা। কিন্তু অবশেষে গত ৩০ মে প্রয়াত উ পঞঞা জোত মহাথের (উচহ্লা ভান্তের) শিষ্য ৫জন ভিক্ষু, ৩জন শ্ৰমণ ও মেশিলা ৩জনসহ ঞানাসিরি (জ্ঞানপ্রিয়) ভান্তেকে রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারে বিহারাধ্যক্ষ হিসেবে বরণ করে নিয়েছেন ভান্তে শিষ্যরা।

এদিকে বান্দরবান রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের ৮তম বিহারধ্যক্ষ উ পঞঞা জোত মহাথের উচহ্লা ভান্তে গত ১৩এপ্রিল মহাপ্রয়াণের পর ভান্তের মৃতদেহ চট্রগ্রাম ম্যাক্স হাসপাতাল হতে খৈয়াখালী বৌদ্ধ বিহারে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ওই খৈয়াখালী বৌদ্ধ বিহারেই উ পঞঞা জোত মহাথের (উচহ্লা ভান্তে) মৃতদেহ রাখা আছে। এরপরই রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের বিহারধ্যক্ষ কে হবে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। যা সামাজিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন নামের আইডি থেকে এ নিয়ে ঝড় ওঠতে শুরু করলে, যা পরবর্তীতে রাজগুরু বিহারের নিরাপত্তা নিয়েও বান্দরবান বৌদ্ধ অনুসারীদের মনে বিভিন্ন ধরনের সন্দেহ জেগে উঠে।

এ সময় পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা সহযােগীতায় রাজগুরু বিহারের প্রাচীনতম পবিত্র বৌদ্ধ মূর্তির ও বিহারের নিরাপত্তা ও রক্ষার্থের কথা চিন্তা করে কয়েকদিনের জন্য বৌদ্ধ মূর্তি আসনের সামনে ফটকে নতুন তালা দিয়ে সীলগালা করা হয়েছিলাে।

এ বিষয়ে পরবর্তীতে ১৬মে প্রয়াত ভদন্তের মরদেহ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের বিষয়টিসহ পার্বত্য জেলা পরিষদ মিলনায়তনে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, আঞ্চলিক পরিষদ প্রতিনিধি, বােমাং রাজার প্রতিনিধি, রাজ পরিবারের সদস্য ও পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের ভান্তে সহ উচ্চ মহলের সচেতন ব্যক্তিদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলণ করেছেন। এসময় সাংবাদিকদের সাথে এক আলােচনা সভার মাধ্যমে ১১৩ জনের কমিটি গঠনের তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিহার পরিচালনার জন্য বিহারধ্যক্ষ না থাকার কারণে গত ১৩ মে এক জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১৭ মে রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের সীলগালা চাবি বােমাং সার্কেল চীফ ১৭ তম রাজা উ উচপ্রু চৌধুরী নিকট হস্তান্তর করলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কশৈহ্লা। হস্তান্তরের পরে নবনিযুক্ত বিহারধ্যক্ষ অভিষেকের বিষয়ে আলােচনা করে নতুন একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করে ।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে মারমা সম্প্রদায়ের ধর্ম নিয়ে রাজ বৌদ্ধ বিহার (খ্যং ওয়া ক্যং) ও উজানী বৌদ্ধ বিহার এই দুই বৌদ্ধ বিহারকে কেন্দ্র করে রাজ পরিবারের সাথে প্রয়াত উচহ্লা ভান্তে দ্বিধা দন্দ ভেদাভেদ ছিল। শেষমেস উচহ্লা ভান্তে শিষ্যরা এক গ্রুপ আর রাজ পরিবার ও উজানি পাড়া বিহার ভক্তরা এক গ্রুপ। তাছাড়া ভান্তেদের মধ্যেও দুই মেরুতে সৃষ্টি হয়েছিল। দুই গ্রুপের পূজারীগণ আলাদা আলাদা বিহারে পূজা, প্রার্থনা, ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে আসছিল।

স্বর্ণ জাদি প্রতিষ্ঠাতা উ পঞ ঞা মহাথের উচহ্লা ভান্তে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও নতুন বিহারঅধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজ পরিবার আর খ্যংওয়াক্যং কমিটি ও ভক্ত পাশাপাশি বিভিন্ন বিহারে অবস্থানরত বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এগিয়ে এসেছেন। দুই গ্রুপের মধ্যে অতীতে যেসব মান-অভিমান ছিল তা অবসান ঘটিয়ে নতুন করে মিলবন্ধন সেতু তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বৌদ্ধ সমাজের সচেতন মহলরা। তাঁদের এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.