সন্ধীপ সীমানা নির্ধারণের দাবিতে চট্টগ্রামের সাথে নোয়াখালীর আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ.বি.এম আজাদ মহোদয়কে আজ ০৩ মার্চ ২০২০ মঙ্গলবার দুপুরে স্মারকলিপি পেশ করেন স›দ্বীপ নাগরিক সমাজ এর পক্ষে এক প্রতিনিধি দল।
স্মারকলিপিতে স›দ্বীপ নাগরিক সমাজ নেতৃবৃন্দ ১৯১৩-১৯১৬ সালে প্রস্তুতকৃত ১৯৫৪ সালে সংশোধিত সিএস ম্যাপ অনুযায়ী স›দ্বীপের সীমানা নির্ধারণ এবং স›দ্বীপ উপজেলার অন্তর্গত সাবেক ন্যায়মস্তি ইউনিয়ন জেগে উঠার পর ঠেঙ্গার চর নামে পরিচিতি পাওয়া বর্তমান ভাসান চরকে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অধীন থানা ঘোষণার প্রতিবাদ জানান।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নদীর এপার গড়ে ওপার ভাঙে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছরের প্রাচীনতম ৬৩০ বর্গমাইলের স›দ্বীপ ভাঙনের শিকার হয়ে এখন মাত্র ৮০ বর্গমাইলে পরিণত হয়েছে।
স›দ্বীপের সাবেক ন্যায়মস্তি ইউনিয়ন জেগে উঠার পর ঠেঙ্গার চর নামে পরিচিতি পাওয়া বর্তমান ভাসান চরের দূরত্ব স›দ্বীপ থেকে মাত্র ৫ দশমিক ৬ কিলোমার আর আমাদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা হাতিয়ার নলাচির ঘাট থেকে ভাসান চর প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্বে। স›দ্বীপের সাবেক ন্যায়মস্তি ইউনিয়ন জেগে উঠার পর ঠেঙ্গার চর নামে পরিচিতি পাওয়া বর্তমান ভাসান চরে চট্টগ্রাম রেঞ্জের বন বিভাগ থেকে স›দ্বীপ বন রেঞ্জের মাধ্যমে বনায়ন করা হয়েছিল প্রায় ১০ বছর। সঙ্গত কারণেই সাবেক ন্যায়মস্তি ইউনিয়ন জেগে উঠার পর ঠেঙ্গার চর নামে পরিচিতি পাওয়া বর্তমান ভাসান চর স›দ্বীপ উপজেলারই অধীন একটি অংশ।
সম্প্রতি জেগে উঠার পর ঠেঙ্গার চর নামে পরিচিতি পাওয়া বর্তমান ভাসান চরকে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অধীন থানা ঘোষণা করায় স›দ্বীপবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ করে চলছে। আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রম শেষ করার জন্য স›দ্বীপবাসী ভূমি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতঃ ভূমি মন্ত্রণালয় জরিপ কাজ সম্পন্ন করার জন্য গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ অফিস আদেশ জারি করে। কিন্তু জরিপ কাজ শুরু হওয়ার পূর্বেই গত ২১ অক্টোবর ২০১৯ সাবেক ন্যায়মস্তি ইউনিয়ন জেগে উঠার পর ঠেঙ্গার চর নামে পরিচিতি পাওয়া বর্তমান ভাসান চরকে নোয়াখালী জেলার অধীন হাতিয়া উপজেলার একটি থানা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে এমন ঘোষণা অনাকাক্সিক্ষত এবং অনিয়মতান্ত্রিক। প্রসঙ্গতঃ ইতোমধ্যে আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণে স্যাটেলাইট জরিপ কাজ শুরু হয়েছে।
আমরা জেনেছি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ভূমিমন্ত্রী চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ মহোদয় আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণে চলমান স্যাটেলাইট জরিপ আগামীকাল ৪ মার্চ ২০২০ বুধবার ‘এয়ার ভিউ’র মাধ্যমে সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে থাকবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স›দ্বীপের সাংসদ আলহাজ মাহফুজুর রহমান মিতা।
স›দ্বীপ অঞ্চলের প্রায় ৪ লক্ষ জনগণের পক্ষে মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, ১৯১৩ থেকে ১৯১৬ সালে প্রস্তুতকৃত ১৯৫৪ সালে সংশোধিত সি.এস ম্যাপ অনুযায়ী আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণে আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অনতিবিলম্বে কার্যকর ভূমিকা নিন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ.বি.এম আজাদ মহোদয়ের মাধ্যমে ভূমিমন্ত্রী মহোদয় বরাবর স্মারকলিপি পেশকালে উপস্থিত ছিলেন স›দ্বীপ এসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস.এম. ইব্রাহিম, মোশাররফ হোসাইন, স›দ্বীপ নাগরিক সমাজের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান, সমন্বয়ক আলাউদ্দিন আকাশ, ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।