জেলা প্রতিনিধি, নাটোরঃ পেশায় একজন কৃষক আব্দুস সামাদ। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সরকারী খাতায় তিনি এখন মৃত। জীবিত থেকেও মৃত হয়ে সরকারী তালিকায় নিজেকে জীবিত হতে আবেদন জানিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ধর্ণা দিয়ে চলেছেন। আব্দুস সামাদ নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা সদরের বাগাতিপাড়া পৌরসভাধীন লক্ষণহাটি এলাকার মোঃ এলবাস আলী ও মোছাঃ আয়েশা বেগমের ছেলে।
আব্দুস সামাদ জানান, তিনি ২০০৮ সালে জাতীয় পরিচয় পত্র পেয়েছেন। কিন্তু গত পাঁচ বছর আগে জানতে পারেন সরকারী খাতায় তিনি মৃত। বিষয়টি পৌর মেয়রসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তারা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। তাদের পরমর্শে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গেলে তারা স্বল্প সময়ে বিষয়টি সংশোধন করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও মৃত থেকে জীবিত হতে পারেন নাই তিনি। বিষয়টি সংশোধন হয়েছে মনে করে গত উপজেলা নির্বাচনের সময় ভোট দিতে গেলে আবারও তাকে ভোট দিতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া বলা য়ি আব্দুস সামাদ মৃত। স্বশরীরে জীবন্ত মানুষকে মৃত বলায় বিস্মিত হতে হয়। জাতীয় পরিচয় পত্র দেখানোর পরও তাকে মৃত বলে ভোটার তালিকায় উল্লেখ থাকায় ভোট প্রদান করতে পারেননি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষনিকভাবে আবারও অবহিত করলে তিনিও স্বল্প সময়ে সংশোধনের আশ্বাস দেন। এই স্বল্প সময় কতদিনে হয় তা তারাই বলতে পারেন। গত শুক্রবার (০৬ মার্চ) উপজেলায় স্মার্ট কার্ড নিতে গিয়ে দীর্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে আসতে হয়েছে। সেখান থেকেও জানানো হয়েছে তিনি মৃত।
আব্দুস সামাদের ছেলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী ফজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার বাবা জীবিত থাকার পরও সরকারী খাতায় মৃত দেখানো হচ্ছে কেন? তিনি দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে বিগত নির্বাচনগুলোতে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। একইভাবে স্মার্ট কার্ড থেকে বঞ্ছিত করা হয়েছে। তার বাবা মৃত থেকে জীবিত হতে বিভিন্ন দপ্তরে মৌখিকসহ লিখিত আবেদন করেও জীবিত হতে পারিনি গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে। তিনি বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণসহ সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
বাগাতিপাড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ইউসুফ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রায় এক বছর আগে আব্দুস সামাদের মৃত থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। আব্দুস সামাদ তার ওয়ার্ডের ভোটার হওয়ায় তাকে তিনি খুব ভালভাবে চেনেন ও জানেন। তার বিষয়টি নিয়ে তিনিও বহু চেষ্টা করেছেন । কিন্তু সুফল না হওয়ায় কষ্ট পাচ্ছেন। এজন্য তিনি আব্দুস সামাদসহ তার পরিবারের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রায় তিনমাস আগে আব্দুস সামাদের একটি লিখিত আবেদন পাওয়ার পর সংশোধনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে । ঢাকা থেকে সংশোধন হয়ে আসলে তিনি তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবেন।