
সাগরের তলদেশ দিয়ে সন্দ্বীপে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বুধবার সকাল ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় ৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও ১২টি উপজেলায় শতাভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, বিদ্যুৎ সংযোগ এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে। বিদ্যুতের জন্য মানুষকে এখন আর ঘোরাঘুরি করতে হয় না। বিদ্যুৎই পৌঁছে যায়।
সন্দ্বীপ নিয়ে স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্দ্বীপে আমি বহুবার গিয়েছি। ১৯৮৫ সালের ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ত্রাণ বিতরণ করতে গেছি। মাছের ট্রলারে সন্দ্বীপ থেকে উড়িরচর গেছি ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত মানুষদের দেখতে। তখন লবণাক্ত পানিতে সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পান্তা ভাত, নারিকেল কোরা, আর শুকনো মরিচ দিয়ে ভাত খেয়ে সারাদিন থেকেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সন্দ্বীপ দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত ছিলো। আমরা ক্ষমতা আসার পর থেকে সেখানে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। প্রথমে দশ লক্ষ সোলার প্যানেল দিয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। এরপর সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে পুরো সন্দ্বীপকে আলোকিত করে দিয়েছি। কাজেই সন্দ্বীপের সকল সমস্যা সমাধানকল্পে যা যা করা দরকার আমরা তা করবো।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাকে উদ্দেশ্য করে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাগিদ দেন।
এদিকে, আজ সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমিনের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির। এসব বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হবে।
ইউএনএইচসিআরের এক কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তিন দিনের সফরে সোমবার সকালে ঢাকায় আসেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই তিনি কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান।