সারাদেশে ঝড় ও বজ্রাঘাতে আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে চারজনের মৃত্যু হয়।
ঝড়ে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য করা প্যান্ডেল ভেঙে পড়লে আটকা পড়েন প্রায় অর্ধশত মুসল্লি। এ ঘটনায় আহত ২৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম (৪৭) নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন মো. আলাউদ্দিন জানান, এ দুর্ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক জানান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে একটা অস্থায়ী প্যান্ডেল ভেঙে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার প্রগতি সরণিতে দেয়াল চাপা পড়ে বুলবুল বিশ্বাস (২৪) ও আনুমানিক ২৮ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান সরকার (৬৫) ঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেছেন।
পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল আহমেদ জানান, ঝড়ের সময় আব্দুস সোবহান মুড়ির আড়তে বসেছিলেন। একটি ইট তার মাথায় এসে পড়লে তিনি আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এছাড়া ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে চাঁপাই সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে ধানকাটার সময় মারা যান মোশাররফ হোসেন (৩৫) ও রেজাবুল হক (৪০)। তাদের দু’জনের বাড়ি শ্রীরামপুর গ্রামে।
বালিয়াডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম জানান, শ্রীরামপুর এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক জমিতে ধান কাটছিল। বিকেলে হটাৎ করে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলে শ্রমিক মোশাররফ হোসেন ও রেজাবুল হক মারা যায়।
অন্যদিকে নওগাঁর পোরশা উপজেলার গানোইর বিলে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে হাসান (৩০), শফিনুর (২৮) ও জাহাঙ্গীর (১৭) নামে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুলবুল আহমেদ (৩২) নামে অপর এক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
নিহত হাসান পোরশা উপজেলার গানোইর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। শফিনুর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিটলীটোলা গ্রামের আজাদ হোসেনের ছেলে। আর জাহাঙ্গীর আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবী পাড়ার খোদাবক্স এর ছেলে।
পোরশা থানার ওসি শাহিনুর রহমান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে তারা বজ্রাঘাতে মারা যান।
ঠাকুরগাঁয়ে ঝড়ে ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ডঃ
এর আগে ঝড়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় একটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার শুকানপুকুরী ইউনিয়নের বাংরোড গ্রামের ওপর দিয়ে এ ঝড় বয়ে। চার থেকে পাঁচ মিনিটের ওই ঝড়ে ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ে উপড়ে পড়েছে গ্রামের অসংখ্য গাছপালা; বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎসংযোগ। নষ্ট হয়েছে বিভিন্ন ফসল।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মনিরুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করেই প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হয়। ঝড়টি মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। এতে ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
এর আগে আবহাওয়া অধিদফতর তাদের সতর্ক বার্তায় জানিয়েছিল। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে আগামী তিনদিন বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানায় সংস্থাটি।
এদিকে হঠাৎ করে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিকেল থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, সন্ধ্যা ৭টার রাজধানীতে বয়ে যাওয়া ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬৫ কি.মি.। ঝড়টির স্থায়ীত্ব ছিল প্রায় ৫ মিনিটের মতো।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাসের গতিবেগ বেশী ছিল বিমানবন্দর এলাকায়। সেখানে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯৩ কি. মি.।