নিজস্ব সংবাদদাতা, সীতাকুন্ডঃ সীতাকুন্ড থানাধীন ভাটিয়ারী লিংক রোডের পাশে ৫নং এলাকায় বিগত ৩০ শে জুন ৬ বিদ্যুত কর্মীর উপর মারধরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে, গ্রেফতার আতংকে এলাকাবাসী।
জানা যায়, বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে প্রচন্ড ঝড়ের কারনে বৈদ্যুতিক লাইনের উপর গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ফৌজদার হাট বিদ্যুৎ অফিসের (বিবিবি) বিদ্যুৎ কর্মী ট্রান্সফারমার হতে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করতে আসেন। সেসময় এলাকার কয়েকজন তাদের চোর ভেবে মারধর করেন ।
এই ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যূতিক খাম্বায় এতো রাতে আলো দেখে এই এলাকার কয়েকজন তাদেরকে চোর মনে করে সমবেত হয়ে বের হন, এমন সময় বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন হঠাৎ জনগনের আগমন দেখে বিব্রত হয়ে পড়ে। এলাকার মুরুব্বি ওলি আহম্মদ বলেন, বুঝতে না পেরে এলাকার ছেলেরা চোর মনে করে মারধর করতে যায়। একপর্যায়ে তারা নিজ পরিচয় দিলে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।।
এলাকাবাসী আরও জানান, এর পূর্বেও ৮/৯ বার ঐ এলাকার ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটে। তারা পূর্বের ইঞ্জিনিয়ার মনির সাহেবকে চোর ধরিয়ে দিয়ে সহযোগীতা করেন। এবার ও তা মনে করায় ভুল বুঝাবুঝিতে উক্ত ঘটনার সুত্রপাত হয়।
আরো জানা যায়, ঘটনার পরদিন ফৌজদার হাট বিদ্যুৎ অফিসের (বিবিবি) নির্বাহী প্রকোশলী শেখ কাউসার মাহমুদ নেতৃত্বে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে উক্ত ৫ নং এলাকার বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করেন। সহকারী প্রকোশলী এখলাস উদ্দিন বাদী হয়ে সীতাকুন্ড থানায় একটি মামলা রুজু করেন ।
ঘটনার পর হতে উক্ত ৫নং এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকায় প্রায় শতাধিক পরিবারের পানির একমাত্র পাম্পটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলাকাবাসী খাওয়ার পানির সংকটের কারনে ডোবার ময়লা পানি ব্যবহার করে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে এলাকাবাসী জানান। এমনকি মসজিদে পানি না থাকায় মুসুল্লীগন নামাজ পড়তে পারছেন না। এলাকায় অসুস্থ কয়েক পরিবার রয়েছে যাদেরকে নেভুলাইজার সরবরাহ করতে হয় বিদ্যুৎ না থাকায় তারা খুবই বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
এই রিপোর্ট্ করার সময় পর্যন্ত ৫ নং এলাকা অন্ধকারাছন্ন রয়েছে ও এলাকায় গ্রেপ্তার আতংক বিরাজ করছে।।
মামলা বিষয়ে সীতাকুন্ড থানার এস আই নূর নবীর মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফৌজদার হাট বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী প্রকোশলী এখলাস উদ্দিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রুজু হয়েছে ও আসামী গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফৌজদার হাট বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে নির্বাহী প্রকৌশলী ব্যস্ততার কারনে পরে জানাবেন বলে জানান।
এই বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী এখলাস উদ্দিন বলেন, এলাকার লোকজন চোর মনে করেই মেরেছে, কিন্তু আমরা পরিচয় দেওয়ার পরও আমাদের লোকজনের গায়ে হাত তুলেছে। সেই এলাকার বিদ্যুত লাইন নির্বাহী প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে বিচ্ছিন্ন করেছি, এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছি। ৭ জনকে মুল আসামী আর ৩০/৩৫জনকে অজ্ঞাত আসামী দিয়ে মামলা করেছি।