Friday, September 11

সুন্দরগঞ্জে এক স্কুল দুই চরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘ্নিত

0

মোঃ হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চর মাদারীপাড়া গ্রামে স্থাপিত হরিপুর বিএসএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসী ও প্রধান শিক্ষক কর্তৃক তিস্তার উত্তর-দক্ষিণ দুই পাড়ে চরের মধ্যে পৃথক চালাঘর তুলে ২টি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। এলাকাবাসীর দলিলকৃত জমিতে নির্মিত চালাঘরের বিদ্যালয়ে এক মাস থেকে শিক্ষক অনুপস্থিত এবং কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। অপরদিকে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক নির্মিত চালঘরের বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেই। প্রধান শিক্ষক ও এলাকাবাসীর দ্ব›েদ্ব কোমলমতী শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো হতে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। আসন্ন বার্ষিক ও সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন।
চরাঞ্চলের শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের পড়ালেখা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেন। সেইলক্ষে এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ ১৯১৪ সালে হরিপুর ইউনিয়নের মাদারীপাড়ায় হরিপুর বিএসএম নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে। বিদ্যালয়টি স্থাপনের পরে কয়েক দফা নদী ভাঙনের কবলে পরায় পরবর্তীতে চর মাদারী পাড়ায় বিদ্যালয়টি স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসাছিল। তিস্তা নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকায় বিদ্যালয়টি আবারও ভাঙনের সম্ভাবনা দেখা দিলে এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের টিন খুলে নিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী তিস্তা নদীর উত্তরে বিদ্যালয়ের নামে দলিলকৃত জমিতে চালাঘর তুলে বিদ্যালয়টি চালুর ব্যবস্থা করে। কিন্তু ওই নির্মাণকৃত বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকগণ দীর্ঘ এক মাস থেকে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী আব্দুল মান্নান মিয়া জানান বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমিতে আপাতত চালাঘর তুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক কোন কারণে সেখানে যাচ্ছেন না তা আমরা চরবাসী জানিনা। সে কারণে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এনিয়ে প্রধান শিক্ষক গুলশান আরা হামিদা জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পরামর্শক্রমে একই মৌজায় তিস্তা নদীর দক্ষিণ পাড়ে বিদ্যালয় স্থাপন করে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এ কারণে নদীর উত্তরপাড়ে এলাকাবাসী কর্তৃক নির্মিত চালাঘরে আমি ও আমার শিক্ষকগণ যাচ্ছি না। উপজেলা শিক্ষা অফিসার হারুন-অর-রশিদ জানান, আমার পরমার্শ মতে প্রধান শিক্ষক যে স্থানে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করে চালু রেখেছেন সেটি জনস্বার্থে সুবিধামত সময়ে স্থায়ীভাবে বিদ্যালয়টি স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.