
মোঃ হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: তামাকের নিকোটিন মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা শতভাগ নিশ্চিত জেনেও নিষিদ্ধ ঘোষিত তামাক চাষ এবং পরিচর্যার কাজ এখনও বন্ধ হয়নি তিস্তার চরাঞ্চলে। তবে তামাক চাষে নিরুৎসায়ী হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের কৃষকরা।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের হাতে ঘোনা কমপক্ষে ২০০জন কৃষক ও শ্রমিক তামাক চাষ এবং পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওইসব কৃষক ও শ্রমিক প্রত্যেকে কোন না কোন রোগে আক্রান্ত। তিস্তার চরাঞ্চল এখন রবি ফসল চাষাবাদের জন্য সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছে। তিস্তার বালুচরে চলতি মৌসুমে তামাকের ভাল ফলন দেখা দিয়েছে। তামাকসহ নানাবিধ ফসলে ভরে উঠেছে তিস্তার চরাঞ্চল। জমি জিরাত খুঁয়ে যাওয়া পরিবারগুলো পুর্নরায় চরে ফিরে এসে চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া জমির ফসল ঘরে তুলতে পেরে খুশি কৃষকরা।
উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত রাক্ষুসি তিস্তা নদী এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চলের হাজারও একর জমিতে এখন চাষাবাদ করা হচ্ছে নানাবিধ প্রজাতির ফসল। বিশেষ করে ধান, গম, ভুট্টা, আলু, বেগুন, মরিচ, পিঁয়াজ, রসুন, টমেটো, বাদাম, সরিষা, তিল, তিশি, তামাক, কুমড়াসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষাবাদ করা হচ্ছে।
কথা হয় হরিপুর ইউনিয়নের লখিয়ার পাড়া গ্রামের তামাক চাষি আমিনুল ইসলামের সাথে। তিনি নিজে ২ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৮ হতে ১০ মন তামাক পাওয়া যায়। স্বল্প খরচে অধিক লাভের আশায় চরের কৃষকরা এখন তামাকসহ নানাবিধ তরিতরকারি চাষে ঝুকে পড়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতি মন তামাক গ্রেড অনুযায়ী ৫ হাজার হতে ৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। বেলকা ইউনিয়নের তামাক শ্রমিক আব্দুর রহমান জানান, অনেক দিন থেকে তামাক পরিচর্যার কাজ করে আসছি। যার কারণে এটা ছাড়তে পারছি না। এ কাজ করতে গিয়ে আমি নিজে হাঁপানী রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছি।
কাপাসিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, চরাঞ্চলের জমিতে তরিতরকারিসহ নানাবিধ ফসলের আবাদ এখন ভাল হচ্ছে। সে কারণে চরের মানুষ এখন অনেক খুশি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বিশ্বেশ্বর চন্দ্র সরকার জানান, তামাকের নিকোটিনের কারণে মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ। সাধারণত যক্ষা, হাঁপানী, পেটের পীড়া, কাঁশি ও ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ জানান, পলি জমে থাকার কারণে চরের জমি অনেক উর্বর। যার কারণে যে কোন প্রকার ফসলের ফলন ভাল হয়। তিনি বলেন, চরের কৃষকরা নিজে পরিজন নিয়ে জমিতে কাজ করে। সেই কারণে তারা অনেক লাভবান হয়। তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহী করা হচ্ছে। সে কারণে তামাক চাষ এখন নেই বললে চলে। আশা করা যাচ্ছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে সম্পন্নরুপে তামাক চাষ বন্ধ হয়ে যাবে।