মোঃ হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: হিমেল হাওয়া এবং কন-কনে ঠান্ডায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার জনজীবন বিপর্যাস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তিস্তার চরাঞ্চলের অসহায় ও ছিন্নমুল পরিবারগুলো কাহিল হয়ে পড়েছে। শীত বস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল পরিবারগুলো অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছে। গত এক সপ্তাহ হতে হঠাৎ করে জেঁকে বসে কন-কনে ঠান্ডা এবং শৈত্য প্রবাহ। স্থবির হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ঠান্ডার কারণে কর্মজীবি এবং শ্রর্মজীবি শ্রেণির মানুষজন যথানিয়মে কর্মস্থলে যেতে পারছে না। স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অতিকষ্টে প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসা করছে। উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তার চরাঞ্চলের অসহায় পরিবারগুলো নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফিরে এবং খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, চরাঞ্চলের জমি-জিরাত খুঁয়ে যাওয়া পরিবারগুলো গরম কাপড়ের অভাবে খঁড় কুটো জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারন করছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, শিশু এবং প্রসূতি মারা অনেক কষ্ঠে রয়েছে। পাশাপাশি গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
অপরদিকে ঠান্ডার কারণে যানবাহন চলাচল ঝুকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে। যার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। অবৈধভাবে পরিচালিত নছিমন, করিমন, ভটভটি এবং ব্যাটারি চালিত অটোবাইক অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ জানান, তার ইউনিয়নে ছিন্নমূল পরিবারের সংখ্য ৫ হাজার। শীতবস্ত্রের অভাবে পরিবারগুলো অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে। এখন পর্যন্ত তার ইউনিয়নে সরকারিভাবে অপ্রতুল শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোলেমান আলী জানান, সবেমাত্র শীত দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় ৬ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে চাহিদা পাঠানো হয়েছে বরাদ্দ পেলে বিতরণ করা হবে।