চট্টগ্রাম নতুন রেলওয়ে স্টেশনে পথশিশুদের পাঠদান করে School Of Humanity and Animation (SOHA),যার অর্থ মানবতার স্কুল ও উদ্দীপনা। এ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয় আলোর আশা ফাউন্ডেশন থেকে। অাজ জুমার পর প্রতিষ্ঠানের ৭০ জন ছাত্র ছাত্রী ও ত্রিশজন অসহায় নারী পুরুষদের মাঝে ঈদের নতুন জামা -কাপড় বিতরণ করেছে আলোর আশা ফাউন্ডেশন।এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মহসীন পি.পি.এম ও বিশেষ অতিথি ছিলেন রহমান মোস্তফা এন্ড কোম্পানী (চাটার্ড একাউন্টেস) এর সম্মানীত পার্টনার জনাব আরাফাত কামাল এফ সি এ।অারো উপস্থিত ছিলেন ইউনিভোগ গার্মেন্টস কোম্পানি লিঃ এর পরিকল্পনা অফিসার মুরাদ শামসূল আলম খাঁন এবং হোসেন ব্রাদার্স এন্ড কোং এর পরিচালক মোঃ বখতিয়ার হোসেন জীবন। এতে প্রধান অতিথি আলোর আশা ফাউন্ডেশনের সাথে একমত পোষন করে বলেন পথশিশুদের ভিক্ষা থেকে সরিয়ে আনতে গেলে এধরণের মহৎ উদ্দেগ্যের বিকল্প কিছু হতে পারেনা। তাদেরকে ভিক্ষা থেকে সরিয়ে আনতে গেলে নৈতিক শিক্ষা জরুরী। তিনি প্রতিটি পথশিশুর প্রোফাইল দেখেন এবং আলোর আশার সাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যান্য উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও আনন্দের সাথে দিনটি উৎযাপন করেন এবং আলোর আশা ফাউন্ডেশনের সাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতি শুক্রবার স্কুলটি পরিচালনা করেন আলোর আশা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মুহাম্মদ আনোয়ার এলাহি ফয়সাল।সুবিধা বঞ্চিত বাচ্চাদের আনন্দ নিয়ে পড়ার আগ্রহ তৈরীর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন সি এ শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম শরীফ ও কলেজ শিক্ষার্থী তৌফিক রবিন।
মুহাম্মদ আনোয়ার এলাহি ফয়সাল সাংবাদিকদের বলেন, সবার আগে শিশু! আজকের সমাজে যারা অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত তারা যদি একটু ভাল গাইডলাইন পায় তারা এদেশের সম্পদ হবে। সমাজে ওরা আজ অবহেলিত কিন্তু একটু ভালবাসা ও সুযোগ পেলে ওরা ও হতে পারে এদেশের সুযোগ্য সন্তান।একটা মানুষ যে অবহেলায় অনাদরে বড় হয় সে এক সময় হয়ে উঠে ভয়ংকর। তাই ওদের ভিক্ষা না দিয়ে তাদের মৌলিক অধিকার পূরণ করুন ওরা আমাদের আলোর আশা। ওরা এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাবে আমাদের দেশ। আর নয় ভিক্ষা এবার হবে শিক্ষা। আমাদের School Of humanity & Animation (SOHA) এর ৭০ জন সুবিধা বঞ্চিত শিশু। যাদের আশ্রয় স্থল ফুটপাত।
সংগঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি আল্লাহ আমাদের তৌফিক দেয় ওদের জন্য স্থায়ী কিছু করবো এই ঈদের পর। এজন্য প্রয়োজন আমাদের সাথে অনেকগুলো মানবিক মানুষের সহযোগীতার হাত।আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ভিক্ষা থেকে তাদের সরিয়ে দেশের জন্য সম্পদ তৈরী করা।আমরা বিশ্বাস করি একজন সরকারের একার পক্ষে কখনো দেশের প্রতিটি মানুষকে পাল্টানো সম্ভব নয়, তাই পরিবর্তন নিজ থেকে হওয়া জরুরী।
সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শরীফ বলেন, আমাদের স্কুলে যারা পড়ায় আমরা তাদের যোগ্যতা দেখি সবার আগে। যে পড়াবে সে তার ছাত্র জীবনে কতটুকু সফল। আমরা প্রতি ৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য দুজন করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকি। এই শিক্ষকগণ মানবতা থেকে তাদের পড়িয়ে থাকে।তাই আমাদের স্কুলের নাম মানবতার স্কুল।
সাংগঠনিক সম্পাদক কাইয়ূম হাওলাদার জানান, প্রতি সাপ্তাহে ক্লাস নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক, কমার্স কলেজ শিক্ষার্থী মোরশেদ আহমেদ শান্ত সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ। মেয়ে পথশিশুদের সার্বিক দেখাশুনা করেন পথশিশুদের প্রিয় আপু সাবরিনা দেওয়ান লুবনা সহ আরো কয়েকজন নারী সদস্য।