বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে আগামী সোমবার থেকে সারাদেশে ফের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। লকডাউনে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠে থাকবে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী।
দেশে বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু হয় করোনায়। শুরু থেকেই করোনা প্রতিরোধে সরকার ধাপে ধাপে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিধিনিষেধ আরোপ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি পালনের আহ্বান জানানো হয়। কোনো কিছুতেই করোনা নিয়ন্ত্রণে না আসায় সরকার কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে, যা লকডাউন নামে পরিচিতি পায়। কিন্তু লকডাউনসহ সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ ছিল না। করোনা নিয়ন্ত্রণে জনস্বাস্থ্যবিদ কিংবা রোগতত্ত্ববিদদের পরিবর্তে আমলাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জগাখিচুড়ির অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, লকডাউনের নামে দেশে যা হয়েছে তা রীতিমতো হাস্যকর। স্বাস্থ্যবিধির দোহাই দিয়ে মার্কেট, গণপরিবহন, রেস্তোরাঁ সব চালু করে দিয়ে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দফায় দফায় সরকার যে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে তাও হাস্যকর।
নির্দেশনায় বলা হয়, এ কঠোর লকডাউনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে। এতে আরো বলা হয়, লকডাউনের সময় পণ্যবাহী যান ব্যতীত সব প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে শুধু যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এর আগে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছিলেন, যেকোনো মূল্যে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুতই কঠোর বিধি-নিষেধের প্রজ্ঞাপন আসছে।
তিনি আরো জানান, মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এরই মধ্যে দেশের সাত জেলায় লকডাউন জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঈদের আগে কঠোর লকডাউন আসতে পারে।