স্ত্রী সাদিয়াকে নির্যাতনের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল আলোচিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। বুধবার(৬ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় বগুড়া সদর থানার ভেতর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে হিরো আলমের শ্বশুর সাইফুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।
বুধবার রাত আটটার দিকে পুলিশ দু’পক্ষকে থানায় ডেকে এনে সমঝোতার কথা বলে। সেখানে হিরো আলম, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, মা আশরাফুন বেগম এবং বোন-ভগ্নিপতি থানায় আসে। অপরদিকে হিরো আলমের শ্বশুর সাইফুল ইসলাম তার আত্মীয়-স্বজন নিয়ে থানায় আসে।
দু’পক্ষ থানায় থাকা অবস্থায় হিরো আলমের শ্বশুরের করা অভিযোগটি থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে হিরো আলম তার স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, হিরো আলমের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনে আহত তাঁর স্ত্রী সাদিয়া বেগম ওরফে সুমিকে (২৪) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় শ্বশুর সাইফুল ইসলাম বুধবার বিকেলে হিরো আলমের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
তবে পুলিশ বলছে, এক দিন আগেই মঙ্গলবার শ্বশুর সাইফুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও পাঁচ লাখ টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় আলাদা লিখিত অভিযোগ করেছেন হিরো আলম।
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে হিরো আলম অভিযোগ করে জানান, তার স্ত্রীর সঙ্গে একই গ্রামের রাব্বী নামের এক যুবকের পরকীয়ার সম্পর্ক আছে। এনিয়ে হিরো আলম চড়-থাপ্পড় মেরে তাকে শাসন করেছেন। এর জের ধরে মঙ্গলবার রাতে তার শ্বশুর এবং অন্যান্য লোকজন তাকে মারপিট করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) আব্দুর রহিম বলেন, শ্বশুরের দায়ের করা মামলায় হিরো আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শ্বশুরের বিরুদ্ধে হিরো আলমের করা অভিযোগটি প্রাথমিক অনুসন্ধানে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।