ট্রফি জেতার পথে শেষ বাধা পেরোনোর চ্যালেঞ্জে আজ তাই অবধারিতভাবেই কিছু পরিবর্তন এনেই নামছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ফাইনালে মাঠে নামতে প্রস্তুত ভারত-বাংলাদেশ। শিরোপার লড়াইয়ে শুক্রবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টাইগারদের বিপক্ষে ‘পূর্ণশক্তির’ একাদশ নিয়েই নামছে টিম ইন্ডিয়া। সেই সঙ্গে টাইগারদের জন্য স্বপ্নের ট্রফি ছুঁয়ে দেখার দিন আজ। যা এখন টিম টাইগারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আজ অধিনায়কত্বে ফিরে আসছেন ভারতের রোহিত শর্মা। গেল ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দলকে নেতৃত্ব দেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি। ক্যাপ্টেন্সি হারালেও দলে থাকছেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। একাদশে ফিরছেন রোহিতের ডেপুটি শিখর ধাওয়ানও। আগের ম্যাচে দুই ওপেনারই বিশ্রামে ছিলেন। বাকি নিয়মিত মুখগুলোও ফিরছেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সম্ভাব্য ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, আম্বাতি রাইডু, দিনেশ কার্তিক, মহেন্দ্র সিং ধোনি, কেদার জাদব, রবীন্দ্র জাদেজা, ভুবনেশ্বর কুমার, কুলদ্বীপ যাদব, যুজবেন্দ্র চাহাল ও জাসপ্রিত বুমরাহ।
মমিনুল হকের জায়গায় একাদশে ঢুকছেন বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম (অপু)। আগের দুই ম্যাচে ছয় নম্বরে ব্যাটিং করলেও ফাইনালের মঞ্চে ইমরুল কায়েস তার নিজের জায়গাও ফিরে পাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রের খবর। অর্থাৎ আজ লিটন কুমার দাশের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সে জন্য সৌম্য সরকারকে চলে যেতে হচ্ছে সাত নম্বরে।
টিম টাইগার পাকিস্তানের সঙ্গে জেতার পর থেকে বেশ উজ্জিবিত। দলের সবাই যে চমক দেখিয়েছে গত ম্যাচে তা যদি অব্যাহত থাকে তবে সবই সম্ভব। আর এবার যদি ট্রফি ঘরে আনা সম্ভব না হয় তবে মাশরাফির জন্য হয়তো আর এমন দিন আসবে না। তাই সবার হয়তো সেদিকে নজরই বেশি থাকবে।
১৯৯৭ সালে সবশেষ বহুজাতিক কোনও টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২১ বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু শিরোপা অধরা থেকে গেছে। এরপর ২০০৯, ২০১২ ও ২০১৬ সালে সেই সুযোগ এসেছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত কান্নাই সাক্ষী হয়ে রইলো। তবে সবচেয়ে বড় সুযোগ নষ্ট করেছিল ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত দুই রানে পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ। শিরোপা হারিয়ে মাঠে সেদিন অঝোর ধারায় কেঁদেছিলেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। যে কান্না আজও চোখে ভাসে। তবে কি আজও আবার কাঁদতে হবে বাংলাদেশকে?
আজকের ফাইনাল নিয়ে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে তৃতীয়বারের মতো ভারতের সামনে বাংলাদেশ। প্রথমবার ২০১৬ সালে এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি ভার্সনে ও দ্বিতীয়বার ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফিতে। এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টির ভার্সনে বাংলাদেশ কোনভাবেই ম্যাচে ছিল না। ভারত একচেটিয়া খেলে ম্যাচটি ৮ উইকেটে জিতে নেয়। কিন্তু নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল সেটা কোনভাবেই ভুলে যাবার নয়। ওভারের শেষ বলে দীনেশ কার্তিকের ছক্কায় ম্যাচটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হেরে যায় বাংলাদেশ।
তাই তপ্ত মরুদ্যানে ভারতের বুকে থাবা বসানোর আরও একটি সুযোগ পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। এই ম্যাচ সামনে রেখে সকলের মনে একটাই প্রশ্ন যে, এবার শিরোপার আক্ষেপ ঘুচবে তো?
ছয়টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হয় এবারের এশিয়া কাপ। শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারানোর মাধ্যমে নিজেদের মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর আফগানিস্তান ও ভারতের কাছে পরাজয়বরণ করতে হয়। কিন্তু সুপার ফোরের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ বলে জয় এবং শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে টাইগাররা।
বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দল কোনও শিরোপা না পেলেও নারী ক্রিকেট দল ঠিকই ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে এনেছে। এবার পালা পুরুষ দলের। নারী ক্রিকেটে এশিয়ার মুকুট বাংলাদেশের কাছে এবার পুরুষ ক্রিকেটের মুকুটও ছিনিয়ে আনার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। মাশরাফি, মুশফিক, মাহমুদুল্লারা পারবে কী সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে?