Tuesday, September 1

স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির কারণে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেছেন, কমিউনিটি ক্লিনিক সেবার কারণে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে এখন ৩০ রকমের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। দেশে স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির কারণে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে, প্রসূতি মৃত্যুর হার কমেছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে।
তিনি আজ রবিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাস্তাঘাট, গ্রামীণ অবকাঠামোসহ সকল সেক্টরের উন্নয়ন করেছেন। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িতে এখন বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। অতীতে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫০ বছরের নিচে। এখন গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭২ বছর। দারিদ্রের হার ৮০ ভাগ থেকে নেমে এখন হয়েছে মাত্র ১০ ভাগ। আগে গ্রামে প্রসূতির ডেলিভারি হতো। এখন কমিউনিটি ক্লিনিকে হচ্ছে। এতে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর হার কমেছে। অতীতে ৫০ (লাখে) ভাগ প্রসূতির মৃত্যু হতো। তা এখন কমে হয়েছে ৪০ ভাগ। আর শিশু মৃত্যুর হার হাজারে ৬০০ থেকে কমিয়ে এখন ১৭০ হয়েছে। এখন ৭০-এ নামিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, সুস্থ জাতি সুস্থ সুন্দর দেশ গঠন করতে পারে। তাই জাতিকে সুস্থ থাকতে হবে। তিনি বলেন, মানিকগঞ্জসহ সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবার প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। জেলার হাসপাতালগুলো আধুনিকীকরণসহ উন্নত যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ঔষধ দেওয়া হচ্ছে। জেলা হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ২০০’শ ওপরে মানুষ চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের পাশাপাশি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেরও উন্নয়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, দেশে বর্তমানে ১৫ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ডায়াবেটিস হাসপাতাল স্থাপন করা হচ্ছে। ডায়াবেটিস রোগীরা ওই সকল হাসপাতালে উন্নতর চিকিসাসেবা গ্রহণ করতে পারবে।

মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে প্রথম কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেন। দেশে এখন ১৪০০ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে আরো ৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের কাজ চলছে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিকভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয়। এতে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের দ্বিতীয় দফায় আবারো শেখ হাসিনার সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, নতুন করে যেসব কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হচ্ছে সেগুলো আরো আধুনিকভাবে করা হচ্ছে। সেগুলোতে দুই রুমের স্থলে চারটি করে রুম করা হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.