Saturday, September 12

আতংকিত হবার কিছু নেই-সিভিল সার্জন
হাটহাজারীতে ৪ ত্রিপুরা শিশু মৃত্যু তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুটি টিম

0

চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ এলাকার সোনাই ত্রিপুরা পাড়ায় অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এসেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচি (ইপিআই)র দুটি টিম।

আজ সোমবার (২৭ অাগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তদন্ত দলের কর্মকর্তারা দুর্গম পাহাড়ী এলাকা ত্রিপুরা পাড়ায় যান।

হাটহাজারীতে অজ্ঞাত রোগে একই পরিবারের তিন শিশুসহ মারা গেছে চার শিশু। উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন ঐ পাড়ার শাম কুমারের তিন শিশু কন্যা অন্ন রায়(৫), সোমা রায়(৩), অন্ন বালা(৭) ও রমেশ চাকমার শিশু কন্যা শিমুনি চাকমা(৩) এবং গুরুতর অসুস্থরা হলেন রমেশ চাকমার তিন শিশু ও মারা যাওয়া শিমুনি চাকমার ভাইবোন ম্যানসন(৬), সোনালি(৩) ও গোপাল(২)। গুরুতরসহ আরো ২২জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে।

সরেজমিনে গিয়ে মারা যাওয়া শিশুদের পিতা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২১আগষ্ট মঙ্গলবার হঠাৎ শাম কুমারের শিশু কন্যা অন্ন রায় ও রমেশ চাকমার শিশু কন্যা শিমুনি মারা যায় তাদের দুতিনদিন ধরে প্রচন্ড গায়ে জ্বর, সর্দি কাশি ছিল পাশাপাশি গায়ে ছোট ছোট দানার মত বিচি উঠেছিল ব্যস এটুকুতেই মৃত্যু, শুক্রবার আবারো একই রোগে শাম কুমারের আরেক শিশু কন্যা শিমুনি মারা যায় কিন্তু রোগটিকে ভগবানের দেয়া কোন রোগ হয়ত চলে যাবে এভেবে বাকীদেরও কোন চিকিৎসা দেয়নি পরিবার কিন্তু ২৬ আগষ্ট (রবিবার) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শাম কুমারের শিশু কন্যা অন্ন বালা মারা যাওয়ায় সবার ভেতর ভীতি সৃষ্টি হলে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের প্রধান ডাঃ আবু সৈয়দ মোঃ ইমতিয়াজ হোসাইনের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক টিম গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুতর তিন শিশুসহ জ্বর সর্দি কাশিতে আক্রান্ত মোট ২২জনকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তবে রোগটিকে আপাতত অজ্ঞাত বললেও বিরল বলতে নারাজ চিকিৎসকগন তাদের দাবি এটাকে বিরল বলা যাবেনা রোগটি অজ্ঞাত হলেও ধারনা করা হচ্ছে ভাইরাসজনিত কোন রোগ।

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের প্রধান প্রতিবেদককে বলেন আমরা খবর পেয়েই উর্ধ্বতনের সাথে কথা বলে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই, গুরুতর অসুস্থ তিনজনসহ সামান্য জ্বর সর্দি কাশি এমন আরো ১৯জনকে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি।

ইতিমধ্যে তদন্ত টিমের সাথে থাকা চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডাঃ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী স্যারও রোগিদের দেখেছেন, তাদের সাথে কথা বলেছেন। রোগটিকে আপাতত অজ্ঞাত হিসেবে ধরা হলেও মনে হচ্ছে ভাইরাসজনিত কোন রোগ। যাদের আনা হয়েছে তারা দারুন পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। আমরা চেষ্টা করব দ্রুত রোগটি নিরুপন করে তাদের চিকিৎসা দিতে।

সিভিল সার্জন ডাঃ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী রোগটি নিয়ে এলাকাবাসীকে আতংকিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন আতংকিত হওয়ার কিছু নেই আমরা দেখছি রোগটিকে কিভাবে দ্রুত নিরুপন করা যায়, দীর্ঘদিনের চিকিৎসা, পুষ্টিহীনতা এবং সবচেয়ে বড় হল সচেতনতার অভাবে এটি হতে পারে। সোমবার ঢাকা থেকে আই ই ডি সি আর, ই পি আই এবং ডব্লিউ এইচ ও নামে তিনটি টিম আসবে তাদের দেখতে, তারা রোগের বিভিন্ন নমুনা নিয়ে যাবে আশা করি দ্রুত অজ্ঞাত রোগটি নিরুপণ করা যাবে। তিনি বলেন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে তাদের সম্পূর্ণ ফ্রী চিকিৎসা, ঔষধ, খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক তাদের পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী আরো বলেন, দুটি সংস্থার সমন্বয়ে একটি টিম এলাকায় এসেছে। আজ বিকালে তারা অাক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখেছেন। পরে তারা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নেয়া শিশুদের দেখতে যান। তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। আজ বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কর্মকর্তারা আসবেন।

এদিকে পাড়ার বাসিন্দারা মিডিয়াকে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ঐ এলাকায় কোন স্যানিটারি ল্যট্টিন, পানির কলের কোন ব্যবস্থা করে দেয়নি ওয়ার্ডের মেম্বার চেয়ারম্যান, একজন পাবলিক ব্যক্তি উদ্যেগে একটি পানির কলের ব্যবস্থা করে দিলেও সেটি নস্টের পথে। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা প্রতিশ্রুতি হিসেবেই থেকে যায়, তাদের প্রার্থনার জন্যে একটি মন্দিরও করে দিবেন বলেছিলেন তাও দেয়া হয়নি।

কয়েকজন জানান, ছয়দিনে চার চারটি শিশু মারা যাওয়ার পরও স্থানীয় মেম্বার কোন খোঁজখবর নেয়নি জানিনা তিনি কোথায় আছেন। তারা বলেন আমরা ২শত বছরের অধিক এখানে বসবাস করছি কিন্তু কেউ আমাদের ঠিকভাবে খবর নেয়না অথচ যে কোন সভা সমাবেশে ডাক দিলে আমরা অন্ধেরমত চলে যাই। কয়েকজন বৃদ্ধের সাথে কথা বলে আরো জানা যায় পরিষদ থেকে সরকারের দেয়া কোন ভিজিএফের চাল, বিধবা ভাতা কিংবা বয়স্কভাতা তারা পাননা। প্রায় ৫৫টি পরিবারের প্রায় চারশত লোকের বসবাস ঐ ত্রিপুরা পাড়ায়। স্থানীয় প্রশাসন তাদের নাগরিক হিসেবে বাস্তবে বিবেচনা করে স্যানিটারি,পানির কল, যাতায়াতের রাস্তাসহ সরকারের দেয়া সব সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করে দেবেন এটাই সচেতন সমাজ আশা রাখেন।

সকালে পরিদর্শন ছিলেন আইইডিসিআর প্রতিনিধি ডা. রেজাউর রহমান খান, ডা. মোস্তাফা ও চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অাবু সৈয়দ মো. ইমতিয়াজ হোসাইনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.