Thursday, September 3

হাটহাজারী’র বিভিন্ন স্থানে ইফতার সামগ্রী তৈরিতে ক্ষতিকারক রং ও বাসী তেল ব্যবহার!

0

মঈন বাঙ্গালী(হাটহাজারী) চট্টগ্রাম: পবত্রি রমজান মাসে সেহেরী খেয়ে সারা দিন রোজা রেখে তেলে ভাজা ছোলা, বেগুনি, পিয়াঁজু, মিহিদানা, জিলাপীসহ ভোজ্য তেল দিয়ে তৈরি নানান রকমরে ইফতারী সামগ্রী না হলে আমাদের চলেইনা। পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে এখন প্রতিদিন বিভিন্নস্থানে বিক্রি করা হচ্ছে নানান মুখরোচক ও দৃষ্টি আকর্ষণকারী ইফতার। দুপুরের সময় গড়াতে না গড়াতেই শুরু হয় ইফতার তৈরির কাজ। আর এসব তৈরিকৃত ইফতার বিক্রির জন্য বড় বড় থালাতে প্রদর্শন করে চলে বিক্রয়। রমজান মাসে রোজাদাররা সেহেরী খেয়ে রোজা রাখেন। প্রতিদিন ইফতারের ঘন্টা দুই এক আগে বিভিন্ন স্থানের তৈরিকৃত এসব নানান ইফতার কিনে নিয়ে ইফতার করেন ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা।

তবে বিভিন্ন জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যেভাবে ইফতার সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে তা নিয়মিত ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাটহাজারী উপজেলা ও পৌরসভা সদরের বেশ কিছু জায়গায় দেখা গেছে ইফতারের নানান খাবার তৈরি করে তা খোলা জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে খোলা অবস্থায় রাখা জিলাপী ও মিহিদানার উপর মাচি যেন মনের আনন্দে খেলাধুলা করছে। একদিকে গাড়ীর কালো ধোঁয়া অপরদিকে গাড়ী চলাচলের ফলে বাতাসে ভেসে থাকা পথের ধূলোবালিও পড়ছে এসব ইফতারের উপর। আর আমরা তা কেমন যেন না জেনে নিরূপায় হয়ে খাচ্ছি প্রতিনিয়ত। আবার কজন সচেতন ক্রেতা সাধারণ এই বিষয় গুলোর কথা চিন্তা করছেন? তবে বেশির ভাগ মানুষই এসব নোংরা পরিবেশে তৈরী ইফতার গুলো ক্রয় করে খাচ্ছে। এদের মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষেরাই বেশি।

সরেজমিনে উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, হাটহাজারী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা সদরের বিভিন্ন স্থানে এসব অস্বাস্থাকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে ইফতার সামগ্রী। অনেক ক্রেতা সাধারণ এসব ইফতারের স্বাস্থা সম্মত ও পুষ্টিগত গুণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসব ইফতার খাদ্য হাট-বাজারের রাস্তার পাশে বিভিন্ন দোকানের সামনে শুধু প্লাস্টিক ও পেপার দিয়ে ডেকে খোলা আকাশের নিছে বিক্রয় করছে দোকানীরা। তবে রমজানে বাজারে ভেজাল ও বাসি খাবারের বিরুদ্ধে প্রশাসন কর্তৃক ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করলেও কোন ভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছেনা এসব ভেজাল ও বাসী খাবার বিক্রয়। এসব মুখ রোচক ইফতার সামগ্রী তৈরি করার সময় বিক্রেতারা যে ভোজ্য তেল ব্যবহার করে তা বারবারই ব্যবহার করে থাকে। আর এই তেল দিয়ে তৈরিকৃত খাবার মানব দেহের জন্য নানা দুরারোগ্য ব্যাধি এমনকি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা
এদিকে শুধু ইফতারি তৈরি করতে যে ক্যামিকেল রং ব্যবহার করা হয় তাও মানবদেহের জন্য বেশ ক্ষতিকারক।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু সৈয়দ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসাইন সাংবাদিকদরে বলেন, দুইবারের অধিক ব্যবহৃত ভোজ্য বাসী তেল ক্ষতিকারক কার্বনের সৃষ্টি করে। ফলে এই তেল দিয়ে তৈরিকৃত যে কোন খাবার মানব দেহে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া ক্ষতিকারক যে রং খাবারে ব্যবহার করা হয় তা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই রং মিশ্রিত খাবার ও খোলা খাবারে বসা মাছির জিবাণু মিশ্রিত খাবার খেলে পেটের পীড়া, বদহজম, হেপাটাইসিস, ডায়রিয়াসহ কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে এসব ভেজাল ইফতার সামগ্রী খেয়ে নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে রোজাদার সাধারণ মানুষ। তিনি রংবিহীন স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে এবং বিশেষ করে তেল জাতীয় বেশী ভাজাপোড়া খাবার যতদূর সম্ভব বর্জন করার পরামর্শ দেন।
ধর্ম প্রাণ মুসলমান রোজাদাররা দাবী করেন, যারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, খাবারে ক্ষতিকারক ভোজ্য বাসী তেল ব্যবহার ও ক্ষতিকারক রং মিশিয়ে খাবার তৈরি করে বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.