
মো: এরশাদ আলী, চট্টগ্রাম হাটহাজারী থেকে:- হাটহাজারী পৌর এলাকার মুন্দরী ছড়া একসময় ছিলো স্হানীয় কৃষকদের প্রাণ। হাটহাজারী ফায়ারিং রেঞ্জ এলাকা থেকে উৎপন্ন হয়ে আলীপুর, চন্দ্রপুর, আলমপুর, মীরের খীল ও মোহাম্মদপুরের শেষ প্রান্ত ছিল মুন্দরী ছড়ার(খাল) গন্তব্য।
গ্রীষ্ম-বর্ষা সারা বছর এই খালে পানি প্রবাহিত থাকায় ইহা স্থানীয়ভাবে ইকুতি ছড়া হিসেবেও পরিচিত। ৭,৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের কৃষকরা মুন্দরী ছড়ার পানি দিয়ে ফলায় আলু, বেগুন, মরিচ, শষা সহ নানান ধরনের শোনালী ফসল এবং একসময় ইরি চাষের একমাত্র নির্বর ছিল মুন্দরী ছড়ার পানি।
কিছু কিছু অসাধু জমির মালিক ছড়ার পাড় কেটে ছড়া ভরাট, যত্রতত্র উঠানামার জন্য পাড় কাটা। খালের ভেতরে গাছ লাগিয়ে ঝুপ- জঙ্গল সৃষ্টি ও মোহাম্মদপুর অংশে খাল ভরাট হওয়ার কারনে ঢলের পানি নিচের দিকে দ্রুত নিস্কাসিত হতে না পারায় বর্ষাকালে পাহাড়ী প্রবল ঢলের পানিতে খালের পাড ভেঙ্গে ভেসে উঠে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পুর্ণ মীরের খীল গ্রাম। বসতঘরে ঢুকে পরে দূষিত পানি, ভেসে যায় লক্ষ লক্ষ টাকার পুকুরের মাছ ও মুরগির খামার। তাই বর্ষা এলে মুন্দরী ঢল আতঙ্কে ভোগেন মীরের খীল এলাকাবাসী।
উত্তর মীরের খীল নাথ পাড়ার বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজ সেবক কিরণ বাবু(বেকারী), নির্মল কুমার নাথ ও আশু কুমার নাথ বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই মুন্দরী ছড়ার ঢলে আমাদের পাড়া ভেসে উঠে, ঘর থেকে বাহির হওয়ার সুযোগ থাকে না, শিক্ষার্থীরা সময় অনুযায়ী স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। শুনেছি আমাদের রাস্তার কাজ হবে, রাস্তা গুলোতো এখনো অনেক ভালো আছে। রাস্তার আগে মুন্দরী ছড়াটি সংস্কার করা খুবই জরুরী। বর্তমান পৌর প্রশাসক পৌর এলাকা উন্নয়নে খুবই মনোযোগি।
মাধ্যম মীরের খীল সরদার পাড়ার বাসিন্দা সমাজ সেবক সরর্দার আফজল হোসেন বলেন, ছড়া ভরাট করার কারনে পাহাড়ী ঢল স্বাভাবিকভাবে নিচের দিকে যেথে না পেরে পাড় ভেঙ্গে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। ইসরাত জাহান পান্না পৌর প্রশাসক থাকা অবস্থায় সরদার পাড়া বরাবর রিটার্নিং ওয়াল করে দিয়েছেন এখন অন্য অংশে ভেঙ্গে গেছে। খালটা খুব দ্রুত সংস্কার করলে পুরো মীরের খীল এলাকার মানুষ উপকৃত হবে বলে জানান তিনি।
মীরের খীল ৮নং ওয়ার্ডের একাধিক ব্যাক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, মীরের খীলের রাস্তাগুলো কার্পেটিং করার আগে মুন্দরী ছড়া ভাঙ্গন রোধ করা খুবই জরুরী। রাস্তা পাকা হলে কি হবে? বর্ষাকালে ঢলের পানিতে গৃহ বন্ধি হয়ে পড়ে এলাকার বাসিন্দারা। প্রয়োজনে রাস্তাঘাটের বরাদ্দের টাকা দিয়ে হলেও আগে মুন্দরী ছড়া সংস্কারের জন্য পৌর প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষন করেন এলাকাবাসী।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, মুন্দরী ছড়ার ব্যাপারে আমি এখন অবগত হয়েছি। খালটি পরিদর্শন করে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিব। এলাকাবাসী যেন মুন্দরী ছড়ার ঢল থেকে যেন রক্ষা পায়।