লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে এখনও মাস খানেক বাকি থাকলেও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দরজায় কড়া নাড়ছে দেবী-দুর্গার আগমনী বার্তা। ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গা প্রতিমা তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছে। পাল বাড়ির কারিগররা কাদা-মাটি, খড়-কাঠ সংগ্রহ থেকে শুরু করে, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সকাল থেকে রাত অবধি চলছে এই কার্যক্রম। এখন শারদীয় দুর্গোৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
এ উৎসবকে ঘিরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজনের মাঝে দেখা দিয়েছে কর্ম ব্যস্ততা। দিন রাত কাজ করে শিল্পীদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। যেন দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। পূঁজাকে সামনে রেখে উপজেলার ভেলাগুড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় প্রতিমা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ওই এলাকার কারিগররা।
এ দিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন সুষ্ঠুভাবে পূজা তৈরি থেকে শুরু করে মূল উৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা যেন সুষ্ঠুভাবে করতে পারে সেজন্য পুলিশও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। এবারো নির্দিষ্ট স্থানে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূজা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার দুর্গাদেবী আসবে ঘোড়ায় চড়ে। দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আগামী ১৪ অক্টোবর (রোববার) দেবীর বোধন এর মধ্য দিয়ে। শুরু হবে ৬ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গা উৎসব। ১৫ অক্টোবর আমন্ত্রণ ও অধিবাস, ১৬ অক্টোবর দেবীর সপ্তমীবিহিত, ১৭ অক্টোবর দেবীর মহা অষ্টমীবিহিত, কুমারী পূজা, সন্ধি পূজা, ১৮ অক্টোবর দেবীর নবমীবিহিত এবং ১৯ অক্টোবর দশমীবিহিত পূজা, সমাপন ও দর্পন বিসর্জন এবং সন্ধ্যা আরত্রিকের পর প্রতিমা বির্সজনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ব বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।
প্রতিমা তৈরির কারিগররা বলছেন, প্রায় মাস তিনেক আগে থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এবার মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হবার কারণে সমস্যা হচ্ছে। সেই সাথে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিমা তৈরির অর্ডার এখনও নেয়া হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহ পর অর্ডার নেয়া বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ একটি প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে রংয়ের আঁচড় দিতে কমপক্ষে ১৫/২০ দিন লেগে যায়। ফলে এখন সময় কম। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর প্রতিমার দাম কিছুটা বেশি। প্রতিটি প্রতিমা ভেদে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা মজুরি দিয়ে প্রতিমা তৈরি অর্ডার গ্রহণ করেছেন কারিগররা।
হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি এলাকার প্রতিমা কারিগর দেবাশীষ পাল জানান, তিন মাস আগে থেকে তারা প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করছেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২৯ টি প্রতিমা তৈরির অর্ডার পেয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এখন প্রতিমাগুলোতে মাথা লাগানোর কাজ চলছে। এখনও অনেক কাজ বাকি। ফিনিসিং, তারপর রংয়ের। আর এসব কাজ শেষ করে তাদের মন্ডপগুলোতে প্রতিমা পৌঁছাতে হবে। এবার প্রতিমার মূল্য সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়েছে।
ওই এলাকার প্রতিমা কারিগর সুমন পাল জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে ৪ টি প্রতিমা তৈরির অর্ডার পেয়ে কাজ শুরু করেছেন। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। মন্ডপে নিয়ে যাবার ১০ থেকে ১২ দিন আগে এগুলো রংয়ের কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
পূজা উদ্যাপন কমিটি হাতীবান্ধা উপজেলা শাখার সভাপতি বাবু কেশব চন্দ্র রায় বলেন, গত বছর এ উপজেলায় ৭১টি মন্ডপে দুর্গোৎসব উদ্যাপন হয়েছে। এবার আরো বেশি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কুমার সরকার জানান, পূজা আগামী মাসের মাঝামাঝি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন সুষ্ঠুভাবে তাদের উৎসব উদযাপন করতে পারেন সে জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। অতি দ্রæত পুজোর সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।