লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা সীমান্তে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার ভোরে উপজেলার গুতামারী ইউনিয়নের বনচৌকি সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আরো ১ জন আহত হলেও সে নিখোঁজ রয়েছে।
নিহতরা হলে– আমঝোল গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে সুরুজ আলী (৩৮) এবং একই গ্রামের উসমান আলীর ছেলে সুরুজ মিয়া (১৭)। নিহতদের একজনের লাশ বাংলাদেশ সীমান্তে, অপরজনের ভারত সীমান্তে রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা লালমনিরহাট হাতিবান্ধার পূর্ব আমঝোল সীমান্তে ৯০৭ নং মেইন পিলারের ৪/এস সাব পিলারের কাছে গরু আনতে যান। এ সময় ভারতের লাল বাজার বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে তারা দু’জন নিহত হন।
গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম সাবু মিয়া জানান, ওই সীমান্তে ভারতীয় গরু আনতে যায় বাংলাদেশী একদল যুবক। এ সময় ভারতীয় কুচবিহার জেলার শিতাই থানার ধুমেরখাতা বিএসএফ ক্যাম্পের বিএসএফ তাদের লক্ষ করে গুলি করেন। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র গুলিতে পুর্ব আমঝোল এলাকার শাহজাহান আলীর পুত্র সুরুজ আলী (৩০) ও একই এলাকার ওসমান আলীর পুত্র সুরুজ হোসেন (২০)সহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়। তাদের সঙ্গীরা ৩ জনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে শাহজান আলীর পুত্র সুরুজ আলী (৩০) ও ওসমান আলীর পুত্র সুরুজ হোসেন (২০) মারা যায়। অপর একজন গুরুত্বর আহত অবস্থায় গোপনে রংপুরের চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ওই দলের অন্যদের খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের সর্ম্পকে সীমান্তবাসীও কোনো তথ্য দিচ্ছে না।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এসএম তৌহিদুল আলম (ইঞ্জি.) জানান, একজনের লাশ আমরা পেয়েছি, কিন্তু অপরজনের লাশ ভারতে থাকায় নিহতের পরিবারের লোকজনদের খোঁজ নেয়া হচ্ছে। বিএসএফ’র সাথে যোগাযোগ করে পাতাকা বৈঠকের চেষ্টা চলছে।