শফিউল ইসলাম শাফি, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাধীন কাঁচকোল দক্ষিণ বাঁধ এলাকার দিনমজুর মোঃ রফিকুল ইসলাম ও মৃত-মর্জিনা বেগমের মেয়ে মিনারা খাতুন।
দুই বোনের মধ্যে মিনারা ছোট। জীবন যুদ্ধে হারতে নারাজ মিনারার দুই হাতের আঙ্গুল না থাকলেও দুই হাতের কব্জির সাহায্যে লিখেই একে একে ৫ম শ্রেণীর সমাপনী(পিএসসি) পাস করে বর্তমানে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট(জেডিসি)পরীক্ষা দিচ্ছে।সে উপজেলার কাঁচকোল খামার সখিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী।মাতার মৃত্যুর পর সাত বার নদীতে বাড়ী ভাঙ্গনের শিকার বাবা রফিকুল ইসলাম মিনারার খালাকে বিবাহ করেন। শারীরীক ভাবে সে স্বাভাবিক থাকলেও তার দু’হাতে কোন আঙ্গুল নেই।দুই হাতের কব্জির সাহায্যে কলম ধরে সে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত লেখা-পড়া চালিয়ে আসছে।
এভাবে কব্জির সাহায্যে সে সাংসারিক বিভিন্ন কাজে বাবা ও সৎ মাকে সহায়তা করে আসছে। ছোট বেলা থেকেই তার পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে বাবা মা তাকে স্থানীয় কেডি ওয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন।মিনারা পড়তে পারলেও লিখতে পারেনি। তারপরও সে মনবল হারায়নি।অদম্য সাহসের সঙ্গে বড় বোন কনার সহায়তায় বাড়ীতে বসে বসে দুই হাতের কব্জির সাহায্যে কলম জড়িয়ে ধরে লিখতে শুরু করে মিনারা। যেদিন সে বর্ণ লেখা শেখে, সেদিনই তার বেশী আনন্দ লেগেছিল বলে জানায় মিনারা।
স্কুলের শিক্ষকগণ অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের মতই যত্ন সহকারে তাকে লেখা-পড়া শেখাতে থাকেন। এভাবেই পিএসসি পাস করে সে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট(জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে মাসিক ৬০০ টাকা হারে বরাদ্দ হয় মিনারার নামে একটি প্রতিবন্ধি ভাতা। এছাড়াও মাদ্রাসা থেকে সে উপবৃত্তি পাচ্ছে। এ টাকায় চলে তার লেখা-পড়ার খরচ।
কাঁচকোল খামার সখিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আইয়ুব আলী আকন্দ জানান,মিনারা ছাত্রী হিসেবে ভালো।মাদ্রাসায় লেখা-পড়ার সকল প্রকার দায়িত্ব আমরা নিয়েছি।তার অভিভাবকের নিকট থেকে কোন অর্থ নেয়া হয় না।মিনারা জেডিসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করবে বলে আশা করছি।
রাজারভিটা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা জেডিসি কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ মোঃ মিনহাজুল ইসলাম বলেন, দুই হাতের সাহায্যে লিখে মিনারা ভাল পরীক্ষা দিচ্ছে,প্রয়োজনে তাকে আমরা অতিরিক্ত সময় দিচ্ছি। মেয়েটি ফলাফল ভাল করবে বলে আমার ধারনা। ডাচ বাংলা ব্যাংকসহ অন্যান্য দাতাদের সহযোগীতা পেলে সে একদিন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে। ভবিষ্যতে হয়তো কারো বোঝা হতে হবে না।
মিনারা খাতুন জানায়,সকলে আমার জন্য দোওয়া করবেন আমি যেন এভাবেই বড় হতে পারি। রাজারভিটা ফাযিল মাদ্রাসা জেডিসি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ আব্দুল হালিম এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি মিনারাকে লক্ষ করেছি, সে ছাত্রী হিসেবে বেশ ভাল, হাতের লেখাও ভাল। মেয়েটি ঠিকমত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে একদিন অনেক বড় হবে।